Sylhet Today 24 PRINT

জামিনে মুক্তি পেলেন আরিফুল হক চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৪ জানুয়ারী, ২০১৭

দীর্ঘ আইনী প্রক্রিয়া শেষে বুধবার (৪ জানুয়ারি) বিকেল ৪ টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্ত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। দীর্ঘ ২ বছর ৫ দিন কারাভোগের পর সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান আরিফুল হক।

আরিফুল হকের জামিনে মুক্তির বিষয়টি সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু সায়েম।

তিনি বলেন, 'সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বিকেল ৪ টা ৩০ মিনিটে তার মুক্তির আদেশটি আসে। তারপর নিয়মিত প্রক্রিয়া শেষে আরিফুল হককে ৪ টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়।'

এর আগে আরিফুল হক মুক্তি পেতে যাচ্ছেন এমন সংবাদে দুপুর থেকেই সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে ভিড় করেন গণমাধ্যমকর্মী ও আরিফের ঘনিষ্টজনেরা।

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত আসামী হিসেবে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন আরিফ। ওইদিন আদালত তাঁর জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

এরপর থেকেই কারাবন্দি আছেন আরিফ। একবছর পাঁচদিন পর আজ মুক্তি পেতে পারেন এই বিএনপি নেতা। মাঝখানে  মায়ের অসুস্থতার কারণে ১৫দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিলো তাকে।

আরিফ মুক্তি পেতে যাচ্ছেন সে আভাস মিলেছিলো বুধবার সকালেই। এসময় সিলেট দায়রা জজ মনির আহমদ পাটেয়ারীর আদালতে আরিফুল হক চৌধুরীকে হাজির করা হয়। এসময় আসামীপক্ষ আদালতে আরিফের জামিনের কাগজপত্র প্রদর্শন করেন। আদালতও মুক্তিতে সম্মতি জানান। এরপর আরিফের মুক্তির কেবল সময়ের ব্যাপার বলে জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবীরা।

আরিফুল হক সাবেক অর্থমন্ত্রী এ এম এস কিবরিয়া ছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বিস্ফোরণ ও হত্যা মামলারও আসামী। এই দুটি ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক মামলাসহ মোট চারটি মামলাতেই জামিন পেয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা শেষে ফেরার পথে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ পাঁচ জন। এ ঘটনায় হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুইটি মামলা করা হয়।

২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গউছ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১ জনকে অভিযুক্ত করে হবিগঞ্জে আদালতে সম্পূরক চার্জশীট দেয় সিআইডি পুলিশ। এরপর ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর ওই ১১ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে আদালত।

এদিকে ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোমা হামলা হলে এক যুবলীগকর্মী নিহত হন।

দুটি মামলাতে আসামী করা হয়েছে আরিফকে। নির্বাচিত মেয়র হলেও এ মামলার কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.