শাকিলা ববি, হবিগঞ্জ | ০৫ জানুয়ারী, ২০১৭
হবিগঞ্জ শহরের নোয়াহাটি এলাকার ঝর্ণা রানী সরকার। গৃহস্থালী কাজের পাশাপাশি কাগজের বক্স বানানোর কাজ করছেন এক বছর যাবত। এ কাজ করে যে পারিশ্রমিক পান তা সংসার চলানোর কাজে ব্যয় করেন ঝরনা।
তিনি বলেন, ১ছেলে ১মেয়ে সহ আমাদের ৪ জনের পরিবার। আমার স্বামী বিজয় সরকার কাঠ মিস্ত্রির কাজ করেন। ছেলে মেয়ে ২ জনই স্কুলে পড়ে। তার একার রোজগারে সংসার চালাতে কষ্ট হয়। তাই আমি অবসর সময়ে মিষ্টির বক্স বানাই। দোকান মালিকরা বোর্ড, রঙ্গিন কাগজ, আঠা বাড়িতে দিয়ে যান। ১০০ বক্স বানালে ৪০ টাকা টাকা পাওয়া যায়। প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ ঘন্টা কাজ করলে প্রায় ৩৫০ টি বক্স বানানো যায়। পারিশ্রমিকের পরিমান কম দেখা গেলেও প্রতিদিনের সবজি তরকারি কিনার ব্যবস্থা হয়ে যায় এ টাকা দিয়ে।
কেবল ঝর্ণা রানীই নয়, হবিগঞ্জের এমন অনেক নারীই কাগজের বাক্স বানিয়ে ঘরে বসেই হয়ে উঠছেন সাবলম্বী। গৃহস্থালির কাজ শেষ করে অবসর সময়ে কাগজের বক্স বানিয়ে সংসারে খরচে সহযোগিতা করছেন হবিগঞ্জ শহরের শতাধিক গৃহিনী।
ঝর্ণা রানীরই এলাকার রতী রানী সরকার। তিনি বলেন, ঘরের কাজ শেষ করে বিকাল বেলা অবসর সময়ে এই বক্স বনানোর কাজ করি। আমার স্বামী কাঠ মিস্ত্রির সাথে যুগালীর কাজ করেন। ঘর চালানোর কাজে আর্থিক সহযোগিতা করার লক্ষ্যেই আমি এ কাজ করি। তিনি আরো বলেন, আমরা গৃহিনীরা যারা ঘরে কাজ করি তাদের ও হাত খরচের কোনো প্রয়োজন হয়। কিন্তু স্বামী রোজগারে সংসার চলে। তাই সব সময় তার কাছে হাত খরচের জন্য টাকা চাইতে পারি না। এ কাজ করে যে টাকা পাই তা দিয়ে সংসারের কাজ ছাড়াও নিজের হাত খরচ চলে যায় অনায়াসে।
হবিগঞ্জ শহরের নোয়াহাটি, যশোরঅব্দা, উমেদনগর, চিরাকান্দি, নোয়াবাদ, ঘোষপাড়া এলাকার শতাধিক গৃহিনী এ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পেশায় গৃহিনী হয়েও নিয়মিত আর্থিক সহযোগিতা করছেন তাদের পরিবারে।
শহরের চিরাকান্দি এলাকার মোদক হাটিতে মিষ্টির বক্স বানানোর কাজ করেন প্রায় ১০ জন গৃহিনী।
মোদক হাটির বিউটি সূত্রধর বলেন, ৩ ছেলে সহ ৫ সদস্যের পরিবারে মূল উপার্জনকারী হলেন আমার স্বামী বিজন সূত্রধর। এক জনের উপার্জনে সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হয়। তাই গৃহস্থালির কাজ শেষ করে মিষ্টির বক্স বানানোর কাজ করি।
আপন প্রোডাক্টাস এর প্রোপাইটার, ব্যবসায়ী সতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, কাগজের বক্স বানানোর জন্য বোর্ড, রঙ্গিন কাগজ, আঠা গৃহিনীদের বাড়িতে দিয়ে আসি। আমরা বোর্ড এবং রঙ্গিন কাগজ কেটে সাইজ করে দিয়ে দেই। কারীগরদের কাজ শুধু কাগজে আঠা লাগিয়ে বক্সের আকার দেয়া। এ জন্য তাদের নির্ধারিত পারিশ্রমিক দিতে হয়। ১০০ বক্স তৈরি করতে ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দেয়া হয়। এই বক্স গুলো আমরা ৪৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি করি।