শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি | ০৬ জানুয়ারী, ২০১৭
শ্রীমঙ্গলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় মৌলভীবাজার জেলায় দুই দিনের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
ফলে শনিবার এবং পরদিন রোববার জেলার কোথাও বাস-ট্রাক-সিএনজি-ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলাচল করবে না।
একই ঘটনায় শুক্রবারও শ্রীমঙ্গলে পালিত হয়েছে ব্যবসায়ী ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ডাকে সর্বাত্মক ধর্মঘট। এই ধর্মঘটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে শ্রীমঙ্গলের জনজীবন। ভোগান্তিতে পড়েছেন বেড়াতে আসা পর্যটক ও সাধারণ মানুষ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল শহরের ভানুগাছ রোডে গাড়ি রাখা (পার্কিং) নিয়ে এক বিজিবির সদস্যের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের বাকবিতণ্ডা হয়। এ খবর বিজিবির শ্রীমঙ্গল সদর দপ্তরে পৌঁছালে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে মারধর করেন। পরে পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা বিজিবি সদস্যদের ওপর পাল্টা হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় প্রায় ১০০ গাড়ি ও ৫০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে আটজন গুলিবিদ্ধসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রাতে ব্যবসায়ীরা শ্রীমঙ্গল চৌমুহনী চত্বরে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং ধর্মঘটের ডাক দেন।
শুক্রবার শ্রীমঙ্গল শহরের বিভন্ন সড়কে ধর্মঘটের সমর্থনে পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। বিকেলে শ্রীমঙ্গল চৌমোহনায় পরিবহন শ্রমিকরা সমাবেশ করেন। সেখানে নেতারা বিচার বিভাগীয় সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিকে প্রত্যাহার ও শাস্তি নিশ্চিত করাসহ ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। সেই সমাবেশ থেকেই মৌলভীবাজার পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সঞ্জিত কুমার দেব এবং শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শেখ লুৎফুর রহমানসহ অন্য নেতারা শনি ও রোববার জেলায় দুই দিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।
এদিকে এ ঘটনার তদন্তে বিজিবি রিওজন পর্যায়ের চার সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে বিজিবির তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন।
বিকেলে বিটিআরআই রেস্টহাউসে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবি কর্মকর্তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. শাহ জালাল, বিজিবির সরাইল রিওজন কমান্ডার, সংসদ সদস্য আবদুস শহীদ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী নেতারা ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।