শাকিলা ববি, হবিগঞ্জ | ০৮ জানুয়ারী, ২০১৭
হবিগঞ্জের সীমান্ত ঘেঁষে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। ত্রিপুরায় বাংলাদেশের সিমেন্ট, ইট, পাথর, শুটকি সহ বিভিন্ন পন্যের চাহিদা আছে। তাই দীর্ঘদিন ধরেই দু’দেশের ব্যবসায়ীরা বাল্লা চেক পোস্ট দিয়ে খোয়াই নদী অতিক্রম করে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করছেন।
তবে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অভাবে বাল্লা চেক পোস্ট দিয়ে রপ্তানির পরিমান দিন দিন কমছে। বর্তমানে পণ্য আমদানি-রপ্তানির অবস্থা আরো নাজুক। অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অভাবে আগ্রহ হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কমছে সরকারের রাজস্ব আয়। সম্প্রতি সেখানে স্থলবন্দর নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। দ্রুত বন্দরটি বাস্থবায়নের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, এক সময় দুই দেশের ব্যবসায়ীরা প্রচুর পণ্য আমদানি-রপ্তানি করলেও এখন নানা ধরনের সমস্যায় তা বন্ধ হওয়ার পথে। আমদানি রপ্তানি কমে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়েছেন এখানকার অনেক শ্রমিক।
এই চেক পোস্ট দিয়ে ২০১০ সালে যেখানে ১১ হাজার মেট্রিক টন সিমেন্ট, ৩০ মেট্রিক টন ইট, সাড়ে ৩ মেট্রিক টন মাছ রপ্তানি হয়েছে, সেখানে ২০১৬ সালের রপ্তানি মাত্র ১ হাজার ৩৪৫ মেট্রিক টন চিটাগুড় ও ৯ মেট্রিক টন শুটকি। ফলে সরকারের রাজস্ব কমার পাশাপাশি আগ্রহ হারিয়েছেন ব্যবসায়ীরাও।
স্থানীয় শ্রমিক সেলিম মিয়া জানান, নদীতে পানি বেশি থাকলে নৌকা দিয়ে আর পানি কম থাকলে পন্য মাথায় নিয়ে পায়ে হেঁটে পারাপার করি। পণ্য বহনের সমস্যার কারণে অনেক কোম্পানী চলে গেছে। যার ফলে আগের মত আর কাজ নেই এখানে। একদিন কাজ হলে ৭ দিন বন্ধ থাকে। আমরা সীমান্ত অঞ্চলের মানুষরা এ কাজের উপরেই নির্ভরশীল। আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
বাল্লা আমদানি-রপ্তানি কল্যান সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন খান বলেন, ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সম্প্রতি সরকার বাল্লা সংলগ্ন কেটারাকোট সীমান্ত এলাকায় স্থলবন্দর স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। স্থল বন্দরের জন্য ৬০ কোটি টাকা বাজেট ধরা হয়েছে। সম্ভাব্য স্থল বন্দর কেদারাকোটে হবে। বন্দরটি চালু হলে আবারো আমদানি-রপ্তানিতে উৎসাহিত হবেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে দ্রুত স্থল বন্দর নির্মান কাজ শুরু করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি আমরা।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম বলেন, আমাদের কাছে ১৫ একর জায়গার মূল্য এবং ক্ষতিপূরন বাবদ প্রাক্কলন চেয়েছে স্থলবন্দর র্কতৃপক্ষ। পাঠানো প্রস্তাব অনুমোদিত হলে দ্রুত অধিগ্রহণের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।