Sylhet Today 24 PRINT

শাহজালাল মাজারে ওরসে বোমা হামলা: দীর্ঘ ১৩ বছরেও ‘ক্লু’ পায়নি সিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১২ জানুয়ারী, ২০১৭

শাহজালাল (র.) এর মাজারে ওরস চলাকালীন জনতার ঢল। ছবিটি সাম্প্রতিক সময়ে তোলা।

২০০৪ সালের ১২ জানুয়ারি। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে গ্রেনেডের শব্দে কেঁপে উঠেছিল সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) এর দরগাহ প্রাঙ্গণ। ওরস চলাকালীন সময়ে সংঘটিত এ গ্রেনেড হামলায় ঘটনাস্থলেই মারা যান ৫জন, আহত হন আরো ২০-২৫জন।

তারপর কেঁটে গেছে ১৩ বছর। এই সুদীর্ঘ সময়েও এ গ্রেনেড হামলার কোন সূত্র বা ক্লু খোঁজে পায়নি তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশের ‘অপরাধ তদন্ত বিভাগ’ (সিআইডি)।

তবে হামলার পরপরই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, কোন নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামী জঙ্গি সংগঠন এ হামলাটি চালায়, তবে তার স্বপক্ষেও কোন সাক্ষ্যপ্রমাণ আজও পায়নি সিআইডি।

২০০৪ সালে কেবল একবার নয়, আরো একবার আক্রান্ত হয় হযরত শাহজালাল র. এর মাজার প্রাঙ্গণ। ২০০৪ সালের ২১ মে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর চালানো গ্রেনেড হামলায় নিহত হন ৩জন, আহত হন আরো ৫০জন ব্যক্তি।

ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ‍উপর গ্রেনেড হামলার ঘটনাটি নিষ্পত্তি ঘটেছে দীর্ঘদিন আগেই। নিষ্পত্তি হয়েছে ২০০৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সংঘটিত আরো একটি বোমা হামলারও। তবে ১৩ বছর ধরেই একেবারেই রহস্যময় হয়েই রয়ে গেছে ওরসের সময় সংঘটিত গ্রেনেড হামলা।

ওরসে গ্রেনেড হামলার পর সিলেটের কোতোয়ালী থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। একটি হত্যা মামলা ও একটি বিস্ফোরক আইনে হামলা। আর গত ৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই ঘটনায় দায়ের করা এ দুটি মামলারই তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন সিআইডি সিলেট জোনের এএসপি শামীমুর রশীদ পীর। ২০০৮ সালের ৮ ডিসেম্বর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণকালে তিনি সিআইডি সিলেট জোনের পরিদর্শক ছিলেন।

শামীমুর রশীদ পীর জানান, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে, কারণ এ হামলার ঘটনার কোন সূত্র বা ক্লু এখন পর্যন্ত পায়নি অপরাধ তদন্ত বিভাগ।

হযরত শাহজালাল মাজারের ওরস চলাকালীন সময়ে এ গ্রেনেড হামলার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় আটক জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, অন্যান্য বিভিন্ন গ্রেনেড হামলার দায় স্বীকার করলেও মাজারে ওরস চলাকালীন সংঘটিত বোমা হামলায় কেউই দায় স্বীকার করেনি বলেও জানান সিআইডির এ তদন্তকারী কর্মকর্তা।

১২ জানুয়ারি মাজারে গ্রেনেড হামলার পর হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক ‍দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছিলো, যার একটির বাদী ছিলেন শাহজালাল র. দরগার তৎকালীন মোতাওয়াল্লি সর-ই-কওম জাফর একরাম উল্লাহ।

মামলা দুটির প্রাথমিক তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ২১ নভেম্বর সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে প্রতিবেদন প্রদান করেন প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিলেট জোনের পরিদর্শক গোপাল চক্রবর্তী। তার প্রতিবেদনে হামলার কারণ ও জড়িতদের ব্যাপারে কোন সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

এছাড়াও গ্রেনেড হামলার তদন্তে গঠিত সিলেটের তৎকালীন পুলিশ সুপার শাহাদত হোসেনকে প্রধান করে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি ২০০৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি যে প্রতিবেদন প্রদান করে, তাতেও কোন সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে ২০১০ সালের ৮ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কয়েকটি গ্রেনেড ও বোমা হামলার ঘটনা পুণরায় তদন্তের যে নির্দেশ দেয়া হয়, তার মধ্যে হযরত শাহজালাল মাজারের ওরসে গ্রেনেড হামলার ঘটনাটিও ছিল, আর এ সময় তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন সিআইডি সিলেট জোনের পরিদর্শক শামীমুর রশীদ পীর, যিনি ঘটনার তদন্তে থাকাকালীন পদোন্নতি পেয়ে একই জোনের এএসপি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

সেদিনের হামলায় আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করা মাজারের তৎকালীন খন্ডকালীন বাবুর্চি আমিরুল ইসলাম বলেন, “১২ জানুয়ারির হামলার পর আরো কত হামলা হলো দেশে, সবগুলোরই কোন না কোনভাবে সুরাহা হয়েছে, কিন্তু এই হামলার আর কোন সুরাহা হয়না”। ন্যায়বিচারের আশা তিনি ছেড়েছেন অনেক আগেই, এখন চলছে তার জীবনসংগ্রাম।

গ্রেনেড হামলার তদন্তের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে তদন্তকারী কর্মকর্তা শামীমুর রশীদ পীর জানান, গত ডিসেম্বরে সিলেট আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে, যাতে শাহজালাল মাজারের ওরস চলাকালীন সময়ে গ্রেনেড হামলার কারণ ও সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহে এখনো অনুসন্ধান চলছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.