নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৫ এপ্রিল, ২০১৫
ড. জহির বিন আলম। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক। দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন সিলেট অঞ্চলের ভূমিকম্প প্রবণতা ও ফল্ট লাইন নিয়ে। এই অঞ্চলের ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানোর উপায় নিয়ে কথা হয় তাঁর সাথে।
প্রশ্ন : সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনার কথা দেশজুড়েই আলোচিত হচ্ছে। সিলেটে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশংকা কতটুক?
ড. জহির বিন আলম : সিলেট সবসময়ই বড়ধরনের ভূমিকম্পের ঝূঁকির মধ্যে রয়েছে। একশ’ বছর পরপর বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা থাকে। সিলেটে সর্বশেষ বড় ভূমিকম্পটি হয়েছিলো প্রায় একশ’ বছর আগে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে, সিলেটে নতুন করে আরো কিছু ফল্ট লাইন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এই ফল্ট লাইনগুলো খুবই একটিভ। যেমন হবিগঞ্জের শাহাবাজপুরে একটা। ফল্ট লাইন একটিভ হলে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা আরো বেড়ে যায়। এছাড়া সিলেটের মাটির তরলীকরণ সম্ভাবনা খূব বেশি।
প্রশ্ন : বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে সিলেটে কী পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে?
ড. জহির বিন আলম : ক্ষয়ক্ষতি নির্ভর করে ভূমিকম্পের উৎপত্তি স্থলের উপর। অনেক দূরে বড় ভূমিকম্প হলেও ক্ষয়ক্ষতি কম হবে আবার কাছে ছোট ভূমিকম্প হলেও ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হবে। সিলেটের ভবনগুলো গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিভাবে। ৭৪.৪ শতাংশ ভবনই ভূমিকম্পের কথা চিন্তা না করে তৈরি করা হয়েছে। এগুলো ভূমিকম্প প্রতিরোধক ভাবে নির্মান করা হয়নি। ফলে সিলেটে ৫ মাত্রার ভূমকম্প হলেই ৮০ শতাংশ ভবন ভেঙ্গে পড়বে।
প্রশ্ন : ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কমাতে এইসব অপরিকল্পিত ভবনগুলো কী ভেঙ্গে ফেলা উচিত?
ড. জহির বিন আলম : ভেঙ্গে না ফেলে ভবনগুলোকে রেকটিফাইটিং করা যেতে পারে। সাপোর্টিং পাওয়ার দিয়ে ভূমিকম্প প্রতিরোধক হিসেবে ভবনগুলোকে গড়ে তোলা যেতে পারে। যেমন ঢাকায় গণস্বাস্থ্য হাসপাতালকে করা হয়েছে। ভেঙ্গে ফেলা তো কোন সমাধান নয়।
প্রশ্ন : ভূমিকম্পের কোন পূর্ভাবাস দেওয়া সম্ভব কী?
ড. জহির বিন আলম : ভূমিকম্পের কোন পূর্ভাবাস দেওয়া সম্ভব নয়। তবে বড় আকারের ভূমিকম্পের পূর্বে ছোট ছোট কয়েকটি ভূমিকম্প হয়। সাম্প্রতিক সময়ে কিন্তু সিলেটে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়েছে। এরকম ঘনঘন ভূমিকম্প হলে ফল্ট লাইন দিয়ে বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
প্রশ্ন : এই মূহূর্তে কোন কাজটাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত?
ড. জহির বিন আলম : ভূমিকম্প সেন্টার নির্মান। সিলেটে অতি তাড়াতাড়ি একটি ভূমিকম্প সেন্টার নির্মান করতে হবে। এটি কিন্তু মন্ত্রিসভায়ও পাস করা আছে।