নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৭ জানুয়ারী, ২০১৭
তারাপুর চা বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির মামলায় কথিত দানবীর রাগীব আলীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন দুইজন।
মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে তারা সাক্ষ্য প্রদান করেন।
সাক্ষ্য দাতারা হলেন, রাগীব আলীরই মালিকানাধীন মালনিছড়া চা বাগানের সহকারী ম্যানেজার মাহমুদ হোসেন চৌধুরী ও আব্দুল মুনিম।
আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌসুলি মাহফুজুর রহমান সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, আদালত মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ২৬ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন। এদিন মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানান এপিপি।
গত বুধবার (১১ জানুয়ারি) আদালতে সাফাই সাক্ষ্য দেয়ার কথা থাকলেও সেদিন উপস্থিত হননি কোন সাক্ষী। ফলে আদালত সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ১৭ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেন। সে অনুযায়ী আজ (মঙ্গলবার) এ সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর আলোচিত এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ১৪ সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত।
প্রসঙ্গত, ১৯৯০ সালে ভুয়া সেবায়েত সাজিয়ে তারাপুর চা বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তি দখল নেন রাগীব আলী। বাগানের একাংশে রাগীব আলী ও তাঁর স্ত্রীর নামে মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং কলেজ স্থাপন করেন।
দেবোত্তর সম্পত্তির চা-বাগান বন্দোবস্ত নেওয়া ও চা-ভূমিতে বিধিবহির্ভূত স্থাপনা করার অভিযোগে ২০০৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আবদুল কাদের বাদী হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি ও সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুটো মামলা করলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে নিষ্পত্তি করে পুলিশ।
১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের রায়ে মামলা দুটো পুনরুজ্জীবিত করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। দুই মামলায় গত ১০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হলে ১২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। ওই দিনই পালিয়ে ভারতের করিমগঞ্জ চলে যান রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে।
গত ২৩ নভেম্বর ভারতের করিমগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন রাগীব আলী। ওই দিনই তাঁকে দেশে পাঠানো হলে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে গত ১২ নভেম্বর ভারত থেকে জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন হয়ে দেশে ফেরার সময় আবদুল হাই গ্রেপ্তার হন।