Sylhet Today 24 PRINT

বেতন-ভাতার দাবিতে নবীগঞ্জে চা বাগানে দিনভর শ্রমিক ধর্মঘট

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি  |  ২১ জানুয়ারী, ২০১৭

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইমাম ও বাওয়ানী চা বাগানে বকেয়া বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন দাবীতে শনিবার (২১ জানুয়ারি) সকাল থেকে দিনভর ফের ধর্মঘট পালন করেছেন শ্রমিকরা। ধর্মঘট পালন কালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে অফিস ঘেরাও করে মিছিল সমাবেশ করে।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যাসহ স্থানীয় জন প্রতিনিধিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা বাগানে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে আগামী ৩০ জানুয়ারির মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধের লিখিত আশ্বাসে বিকেল ৩টার দিকে ধর্মঘট স্থগিত করে শ্রমিকরা।

সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নে অবস্থিত ইমাম-বাওয়ানী চা বাগানের প্রায় সাড়ে ৪ শত শ্রমিকদের ৬ সপ্তাহের বকেয়া বেতন ও রেশন বাবত প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা বকেয়া রয়েছে। দিন দিন করে রেশন ও সাপ্তাহিক বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন শ্রমিকরা। ইতিপূর্বেও শ্রমিকরা বকেয়া বেতন আদায় ও অন্যান্য দাবী বাস্তবায়নের জন্য কোম্পানির উপ মহাপরিচালক বরাবরে আবেদন করেও কোন সুরহা না হওয়ায় ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করে শ্রমিকরা। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে শেষে গেল ডিসেম্বর মাসে তা পরিশোধ করে মালিক পক্ষ। এরপর থেকে প্রায় ৬ সপ্তাহ ধরে শ্রমিক, ম্যানেজার ও স্টাফদের রেশন ও বেতন না দেয়ায় আন্দোলনে নামে শ্রমিকরা।

চা বাগানে বকেয়া বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন দাবীতে ধর্মঘটের খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জীতেন্দ্র কুমার নাথ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইজাজুর রহমান, পুটিজুরি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মুদ্দত আলী, ইউপি সদস্য আব্দুল কালাম, গোপলার বাজার পুলিশ ফাড়ির ইনর্চাজ আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সিউধ্বনি কুর্মি, বাংলাদেশ চা শ্রমিক বালিছড়া ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরা, সাধারন সম্পাদক দেবেন্দ্র কারাউফসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা বাগানে যান। তারা চা বাগানে গিয়ে শ্রমিকদের সাথে আলাপ আলোচনা করে তাদের দাবীর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

চলতি জানুয়ারি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে শ্রমিক, ম্যানেজার ও স্টাফদের বেতন না ফেলে ফের কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির ডাক দিবেন বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। এসময় শ্রমিকরা জানান, তাদের ঘর বাড়ি মেরামত করে দেয়া হচ্ছে না। অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা শ্রমিকরা দিলেও মালিক পক্ষ সে টাকা জমা না দেয়ায় তারা ভবিষ্যতে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাব্যনা রয়েছে।

 

 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.