Sylhet Today 24 PRINT

আর কতো বয়স হলে বয়স্ক ভাতা পাবেন শতবর্ষী কুতুবজান বিবি?

মতিউর রহমান মুন্না, নবীগঞ্জ |  ২২ জানুয়ারী, ২০১৭

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দত্তগ্রামের বাসিন্দা শতবর্ষী কুতুবজান বিবি জীবনের সাথে যুদ্ধ করে দু’বেলা ভাতের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে বেড়াচ্ছেন। সহায়-সম্বলহীন কুতুবযান বিবি একখন্ড ভুমির মধ্যে একটি ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে কোন রকমে দিনাতিপাত করছেন। স্বামী-সন্তান হারা হতদারিদ্র দুস্থ এই নারীর বয়স শত বছর অতিবাহিত হলেও তার ভাগ্যে জোটেনি বয়স্ক বা বিধবা ভাতা। জোটেনি সরকারের দেয়া নানা সুযোগ-সুবিধা। ভিজিডি, ভিজিএফ কার্ড দেয়া হয়নি তাঁকে।

রোববার (২২ জানুয়ারি) সকালে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানান কুতুবজান বিবি।

তিনি বলেন, তার বয়স ১০৫ বছর। স্বামীর মারা গেছেন প্রায় ১০/১৫ বছর আগে। একমাত্র ছেলে ছিল বাকপ্রতিবন্ধি। সেও এই দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে। এলাকার বর্তমান মেম্বার আবুল কাশেম এর নিকট অনেকবার গিয়েছেন সরকারী সাহায্যের জন্য। ঠান্ডায় চলতে পারেন না। সরকারী ভিজিডি, ভিজিএফ চাল তার ভাগ্যে জুটেনি। মিলেনি শীতের কম্বল। অনেকবার বলার পরও সাবেক মেম্বার আব্দুল হাকিম বয়স্ক বা বিধবা ভাতা দেন নি তাঁকে।

তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, মৃত্যুর আগে উক্ত ভাতা ভোগ করতে পারবেন কি না জানেন না। শতবর্ষী কুতুবজান বিবি জানেন না, আর কত বয়স হলে তিনি বয়স্ক ভাতা পাবেন।

কানে ঠিকমত শুনেন না কুতুব্জান বিবি। চোখেও কম দেখেন। ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না। লাঠির উপর ভর করে জীবন-জীবিকার তাগিদে কোন রকমে ঘর থেকে বের হয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে যা পান, তা নিয়েই কোন রকমে চলে তাঁর জীবন। সংসারে আয় রোজগার করার মতো আর কেউ না থাকায় নিজেই নিজের এক মুঠো ভাতের জন্য মানুষের বাড়ি বাড়ি ছুটে যান।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সমাজসেবার উদাসীনতায় এমনটি হয়েছে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া কুতুব জান বিবি নিদারুন কষ্টে অর্ধাহারে-অনাহারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বৃদ্ধা কুতুবজানের জন্য একটি ভাতা কার্ড এবং সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে একটি বসবাসের স্থান জরুরি হয়ে পড়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.