Sylhet Today 24 PRINT

খুনের দায় থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতারণা মামলা দায়েরের সুপারিশ

একজনের অপরাধে অন্যজনের সাজা ভোগের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২২ জানুয়ারী, ২০১৭

সিলেটে হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামীর বদলে শাস্তি ভোগ করা রিপন আহমদ ভূট্টোকে এই মামলা থেকে অব্যাহতির নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট জেলা ও দায়রা জজ মনির আহমদ পাটোয়ারি। অপরদিকে ভূট্টো ও তাঁর  আইনজীবীসহ চার জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা দায়েরের সুপারিশ করেছে এ বিষয়ে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি।

রোববার বিকেলে এই সিদ্ধান্ত ও তদন্ত কমিটির সুপারিশের কথা সাংবাদিকদের জানান তদন্ত কমিটির সদস্য ও সিলেট জেলা মূখ্য বিচারিক হাকিম আব্দুল হান্নান। এসময় জেলা ও দায়রা জজ মনির আহমদ পাটোয়ারিও উপস্থিত ছিলেন। গত মঙ্গলবার মনির আহমদ পাটেয়ারির কাছেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তাঁরা।

আব্দুল হান্নান বলেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে জেলা ও দায়রা জজ রিপন আহমদ ভূট্টোকে ভূট্টোকে হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতির নির্দেশ দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ। অপরদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে কমিটি তিনটি সপারিশ করেছে।

সুপারিশের মধ্যে রয়েছে রিপন আহমদ ভূট্টো, তার আইনজীবী শাহ আলম, শিক্ষানবীশ আইনজীবী শামীম আহমদ, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দালাল লিয়াতক হোসেনের বিরুদ্ধে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার প্রতারণা মামলা দায়ের করবেন।

আইনজীবী শাহ আলম, শিক্ষানবীশ আইনজীবী শামীম আহমদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণে বার কাউন্সিল ও স্থানীয় বার এসোসিয়েশনকে চিঠি। এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় দালালমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

জানা যায়, ২০০৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর সিলেট নগরী থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন আলী আকবর সুমন (২৪)। পরদিন মোগলগাঁও ইউনিয়নের হাউসা গ্রামের পাশে ঝিলকার হাওরে কচুরিপানার নিচে তার লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় নিহতের ছোট ভাই আলী আহসান সুহেল বাদী হয়ে মামলা করেন। শুনানি শেষে ২০১২ সালের ২০ জুন আলোচিত ওই মামলার রায় ঘোষণা করেন সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক দিলীপ কুমার দেবনাথ। মামলার চার্জশিটভুক্ত ৯ আসামির মধ্যে তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন আদালত।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন হাউসা গ্রামের মৃত মছকন্দর আলীর ছেলে দরাছ মিয়া ওরফে গয়াছ ও তার স্ত্রী রুজিনা বেগম এবং একই গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে মো. ইকবাল হোসেন বকুল। সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামিই পলাতক ছিলেন।

২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর রিপন আহমদ ভূট্টো আদালতে হাজির হয়ে নিজেকে ইকবাল হোসেন বকুল দাবি করেন। আদালতের নির্দেশে এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন। তবে আত্মসমর্পণের এক বছর ২ মাস পর বেরিয়ে আসে মূল সত্য। যে বকুল কারাগারে রয়েছেন, তিনি আসল বকুল নন। তার আসল পরিচয় ভুট্টো। আর মূল আসামী ইকবাল হোসেন বকুল বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছেন।

সাজাভোগের ১৪ মাস পর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হান্নানকে প্রধান করে দুই সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা ও দায়রা জজ মনির আহমেদ পাটোয়ারী। গত মঙ্গলবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি ।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.