Sylhet Today 24 PRINT

‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটে বিএনপি ও জামাতের সংমিশ্রণ ঘটেছে’

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ২৩ জানুয়ারী, ২০১৭

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিরুদ্ধে জামায়াতপ্রীতির অভিযোগ ওঠেছে। সোমবার (২৩ জানুয়ারি) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকারী মোহাম্মদ বাদশা গাজী নিজেকে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে সিলেটের আরো কয়েকজন পরিচিত শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নিজেদের জোট সংশ্লিস্ট বলে দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্যে বাদশা গাজী বলেন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ঢাকা থেকে দেশের কোন জেলার জোটকে নিয়ন্ত্রন করে না। এ ধরণের কোন বিধানও নেই। জোটে কেন্দ্র বলতে কোন শব্দ নেই। যেহেতু কেন্দ্র বলতে কোন ব্যবহার নেই, সেহেতু কেন্দ্র কর্তৃক জোটের অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি ধাপ্পাবাজি ও মিথ্যাচার।

উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সিলেটে সাংস্কৃতিক জোটের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আমিনুল ইসলাম লিটনকে সভাপতি ও গৌতম চক্রবর্তীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বাদশা গাজী জোটের সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম সেলিম’র বিরুদ্ধে পারিবারিক ভাবে জামাত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন।

তিনি বলেন, সেলিমের মামা হাসিব ভুইয়া সিলেট মহানগর জামায়াতের রোকন, সেলিমের ছোট ভাই রুকন প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির সাথে জড়িত, তার আরেক ছোট ভাই পলেন যুবদল নেতা, সেলিম নিজে জামায়াতি মামার সাথে মিলে জোটের সার্টিফিকেট ব্যবসার সাথে জড়িত।

বাদশা অভিযোগ করেন, জোট সভাপতি নাজনীন হোসেন (সদ্য বিদায়ী) অভিযোগ আমলে না নিয়ে একতরফা প্রতিনিধি সম্মেলন করে নিজেই সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক হন। কমিটির যুগ্ম আহবায়ক করেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও মহানগর জাসাসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বাবু, জাতীয়তাবাদী বিদ্যুৎ শ্রমিক দলের সভাপতি শামসুল বাসিত শেরো, যার মুখ দিয়ে কোন দিন জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু উচ্চারিত হয়নি, বিএনপির সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের বড় বড় জনসভা যিনি পরিচালনা করতেন, সেই আমিনুল ইসলাম লিটন সহ অনেক বির্তকিত ব্যক্তিকে নিয়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনের পর থেকেই আদর্শিক দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে। এই ঘটনার পর তৎকালীন জোটের কার্যনির্বাহী কমিটির ৯ জন সদস্য জোট থেকে বের হয়ে আসেন।

তিনি দাবি করেন, গত বছরের ১০ নভেম্বর জোটের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন করে জয়নাল আবেদীন জুয়েলকে সভাপতি, জামাল আহম্মদকে সাধারণ সম্পাদক করে জোটের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। তখন থেকেই নাজনীন হোসেন ও শামসুল আলম সেলিম নিয়ন্ত্রিত জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় কার্যত বিলীন হয়ে যায়।

কাজেই গত ২১ জানুয়ারি জোটের নামে যে সম্মেলন হয়েছে নাজনীন হোসেন সভাপতি ও শামসুল আলম সেলিম সাধারণ সম্পাদক পরিচয়ে, তা অবৈধ ও অগঠনতান্ত্রিক। তাছাড়া সম্মেলনের যে কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে, তার মধ্যে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি জায়গা করে নিয়েছেন।

গোলম কুদ্দুস ও ঝুনা চৌধুরী গংরা ২১ জানুয়ারি তারিখে জোটের নামে সম্মেলনে করে বিএনপি ও জামায়াতের যে সংমিশ্রন ঘটিয়েছেন, তা জোটের আদর্শ পরিপন্থি। এই অবস্থায় আমাদের সুষ্পষ্ট বক্তব্য, যাদের কোন আদর্শ নেই, তাদের সাথে ঐক্য বজায় রাখার কোন সুযোগই আমাদের নেই।

সংবাদ সম্মেলনের উপস্থিত ছিলেন জোটের সভাপতি জয়নাল আবেদীন জুয়েল, সহ-সভাপতি সুপেমল সেন, বিরহী কালা মিয়া, বিরহী লাল মিয়া, সিরাজ আনেয়ার, সাধারণ সম্পাদক জামাল আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ বাদশা গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক ডি কে জয়ন্ত, প্রচার সম্পাদক এম এই নিজাম, কোষাধ্যক্ষ কাকলী দত্ত মুন্নী, সদস্য বাহারুল রেজা প্রমুখ।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.