নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৫ জানুয়ারী, ২০১৭
কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলন যেনো কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। শ্রমিকদের প্রাণহানি, প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিযান সত্ত্বেও এখনো এই টিলা থেকে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন চলছে।
বুধবারও শাহ আরেফিন টিলায় অভিযান চালিয়ে বোমা ও সেলো মেশিন ধ্বংস করে ভ্রাম্যমান আদালত।
জানা যায়, রোববার টিলা ধ্বসে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির পরামর্শে বুধবার দুপুরে শাহ আরেফিন টিলায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্যাট জিয়াউল সোহেলের নেতৃত্বে অভিযানকালে দুটি বোমা মেশিন ও ৮টি শোলে মেশিন পুড়িয়ে ধ্বংস করে অাদালত।
এসময় অবৈধ পাথর বহনকারি একজন ট্রাক্টর চালক ও এক শ্রমিককে অাটক করা হয়।
অভিযানের পর জিয়াউল সোহেল বলেন, এই টিলা থেকে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবু নিষেধাজ্ঞা অম্যান্য করে কিছু লোক পাথর উত্তোলন করছে।
তিনি বলেন, এখন থেকে নিয়মিত এই এলাকায় অভিযান চলবে। আইন অমান্যকারিদের কোনো ছাড় দেয়া হবেনা বলেও জানান তিনি।
এদিকে, শ্রমিক নিহতের ঘটনায় কেম্পানীগগঞ্জ থানায় মঙ্গলবার রাতে কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) সুজ্ঞান চাকমা।
মামলায় পাথর উত্তোলনকারী আইয়ুব আলী, সোহরাব হোসেন, আঞ্জু মিয়া, চেরাগ আলী, শ্রমিক সর্দার জাহাঙ্গির আলমের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৬/৭জনকে আসামী করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা হাকিম (এডিএম) আবু সাফায়াৎ মুহম্মদ শাহেদুল ইসলাম শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেন।
মামলা দায়েরের ব্যাপারে এডিএম বলেন, হত্যা সরকারী সম্পত্তি চুরি ও পাথর উত্তেঅলনের মাধ্যমে সরকারী সম্পদ ধ্বংসের অভিযোগে এই মামলা করা হয়েছে।
সোমবার ভোরে কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলনকালে টিলা ধ্বসে ৬ শ্রমিক মারা যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। যদিও পুলিশ দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।