নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৫ জানুয়ারী, ২০১৭
বুধবার শাহ আরফিন টিলা কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ও আদালতের আদেশ পালন করতে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। বেলা প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়েই চিকাডোরা মৌজায় অবস্থিত আরফিন টিলা কাটার বিরুদ্ধে বেলা ২০০৯ সালে হাইকোর্টে জনস্বার্থমূলক মামলা (নং ৫৮৭৩/২০০৯) দায়ের করে। সে সময় আদালত ওই টিলা কাটার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আদেশ প্রদান করেন যা এখনো বলবৎ আছে। আদালতের এমন নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে টিলা কেটে পাথর উত্তোলনের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
গত ২৩ জানুয়ারি টিলা খুঁড়ে পাথর উত্তোলনের সময় টিলার কিছু অংশ ধ্বসে পড়ে ছয়জন শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহত শ্রমিকরা হলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাসিন্দা আবদুল কাদির (৩০), একই জেলার দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের আল হাদিস (৪০), আল আমিন (৩০) তাহিরপুরের তাহের মিয়া (৩৫) নেত্রকোনার পূর্বধরা এলাকার আসিফ (২৫) ও খোকন। এছাড়াও মাটিচাপা পড়ার ঘটনায় রফিক মিয়া নামের একজনকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আদলতের নির্দেশ সম্পূর্ণরূপে অমান্য করে টিলা কর্তন করে পাথর উত্তোলনের কাজ এখনো অব্যাহত থাকায় ১৩৭.৫০ একর টিলার অনেকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ¬¬¬হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে এবং অবিলম্বে শাহ আরফিন টিলা কাটা বন্ধ করতে সেইসাথে, টিলা কর্তনকালে ক্ষতিগ্রস্ত নিহত ও আহত পাথরশ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এই নোটিশ প্রদান করা হয়।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, খনিজ ও জ্বালানী বিভাগের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক; সিলেটের জেলা প্রশাসক, খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব), পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় অফিসের পরিচালক, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ওয়াকফ প্রশাসনের অতিরিক্ত সচিব ও মেসার্স বসির কোম্পানীর স্বত্তাধিকারীর উপর এ আদালত অবমাননার নোটিশ প্রেরণ করে বেলা।