Sylhet Today 24 PRINT

জুড়ীতে নদী ভাঙনে হুমকির মুখে বিদ্যালয় ও মন্দির, আতঙ্কিত গ্রামবাসী

জুড়ী প্রতিনিধি  |  ২৮ জানুয়ারী, ২০১৭

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে অব্যাহত নদী ভাঙনে সাগরনাল ইউনিয়নের কাশিনগর গ্রামের শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের আঘাতে উপজেলার সনাতন ধর্মালম্বী অধ্যুষিত ওই গ্রামটি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে নদী তীর সংলগ্ন কাশিনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা।

নদী ভাঙন থেকে গ্রামটিকে বাঁচাতে গত বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ার) গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কাশিনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন জুড়ী নদীর ভাঙন কবলিত এলাকায় মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে গ্রামবাসীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন সাবেক শিক্ষক দেবেন্দ্র কুমার নাথ ও যুবলীগ নেতা সাওন আহমদ চৌধুরী।

বক্তব্যে তাঁরা বলেন, জুড়ী নদীর দীর্ঘ কয়েক বছরের অব্যাহত ভাঙনের ফলে জমিজমা ও ভিটেমাটি হারিয়ে শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। প্রতি বছর নদী ভাঙনের ফলে ওই গ্রামের একমাত্র সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বহু সংখ্যক মন্দির ও পুজা মন্ডপ হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় বিদ্যালয় ও উপাসনালয়গুলো নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এ ছাড়াও বর্ষা মৌসুমে প্রবল ঢলে জুড়ী নদীর পাড় ভেঙে প্রতি বছর ওই গ্রামটির শত শত একর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গিয়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করছে। এভাবে অব্যাহত নদী ভাঙন চলতে থাকলে এক সময় ওই গ্রামের অন্যান্য কৃষকরাও নিঃস্ব হয়ে পড়বে।

বক্তব্যে বলা হয়, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে ওই গ্রামে কোন ভালো রাস্তা নেই। বর্ষায় রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় জনসাধারণ ও বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নৌকা ছাড়া বিকল্প পথে চলতে পারে না। জুড়ী নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীর পাড় দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। কারণ ওই সময় নৌকা করে শিক্ষার্থীরা প্রথমে জুড়ী নদীর পাড়ে এসে উঠতে হয়। তারপর নদীর পাড় দিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের জন্য কোনো বিকল্প পথ থাকে না। এ কারণে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে মাসের পর মাস বছরের পর বছর শঙ্কায় থাকেন।

গ্রামবাসীরা আরো জানান, এ ব্যাপারে গ্রামটি রক্ষায় এর আগে বহুবার আবেদন নিবেদন করার পরও কোনো ফল নেই। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বারবার আশ্বাস দিলেও আমরা এখনও আশার প্রহর গুনছি। এখনই যদি নদী ভাঙন রোধে সরকারিভাবে কোনো পদক্ষেপ নেয়া না হয়, তাহলে ওই গ্রামটি একদিন জুড়ী উপজেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.