নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭
প্রায় চার মাস পর সিলেটে এসেছেন কলেজ ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিস। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করেন খাদিজা।
বিজি- ৬০৩ ফ্লাইটটি দুপুর ২ টা ১৭ মিনিটে ওসমানীতে অবতরণ করে। এসময় বাবা মাসুক মিয়া ও ভাই শারনান হক শাহিন খাদিজার সঙ্গে ছিলেন।
গত বছরের ৩ অক্টোবর ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের চাপাতি কোপে আহত হয়ে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা অবস্থায় ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো খাদিজাকে। প্রায় এক মাস তাকে স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সার্পোটে থাকতে হয়েছে। তবে আজ ওসমানী বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তাকে অনেকটা সুস্থ দেখা গেছে।
পরিবারের সদস্যরাও এমনটি জানিয়েছেন। বিমানবন্দরে খাদিজার ভাই শাহিন সাংবাদিকদের বলেন, খাদিজার মানসিক অবস্থার উন্নতির জন্য এক সপ্তাহের জন্য তাকে সিলেটে আনা হয়েছে। এই সময়কালে চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি পরিবারের সঙ্গে কাটাবেন। এক সপ্তাহ পর ফের ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে খাদিজাকে।
ঢাকায় পক্ষাঘাত পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) চিকিৎসাধীন আছেন খাদিজা বেগম। গত ৩ অক্টোবর এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে কুপিয়ে আহত করা্ হয়েছিলো তাকে। এ ঘটনায় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমকে হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে তুলে দেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এই ঘটনায় দায়েকৃত মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি। এদিকে খাদিজাকেও আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেনসিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো।
তবে খাদিজার আদালতে হাজির হওয়ার ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে ভাই শাহিন বলেন, ঢাকায় ফিরে চিকিৎসকদের সাথে আলাপ করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বদরুলকে একমাত্র আসামি করে এই মামলাটি দায়ের তার চাচা আবদুল কুদ্দুস। ৫ অক্টোবর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বদরুল। আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন।
এদিকে, গতবছরের ৮ নভেম্বর খাদিজা হত্যা চেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট নগরীর শাহপরান থানার এসআই হারুনুর রশীদ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে ১৫ নভেম্বর আদালত চার্জশিট গ্রহণ করেন। ২৯ নভেম্বর আদালত বদরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। পরে ৫ ডিসেম্বর, ১১ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর আদালতে সাক্ষ্য দেন ৩৩ জন।