Sylhet Today 24 PRINT

গোলাপগঞ্জে খুন হওয়া গৃহবধূর বড়লেখায় শেষকৃত্য, শোকের মাতম

বড়লেখা প্রতিনিধি |  ০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

স্বজনদের চোখের জল আর আহাজারিতে সিলেটের গোলাপগঞ্জে শ্বশুর বাড়িতে খুন হওয়া মৌলভীবাজারের বড়লেখার জনি রানী দাসের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের গগড়া গ্রামে খুন হওয়া গৃহবধূ জনির শেষকৃত্য হয়।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে জনির মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে পুরো এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। শেষবারের মত এক নজর দেখার জন্য দূর দূরান্ত থেকে শত শত লোক ভীড় জমায় জনির বাড়িতে। উপস্থিত সকলেই নির্মম এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী থেকে গৃহবধূ জনি রানী দাসের (২২) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জনি বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের গগড়া গ্রামের সজল কান্তি দাসের মেয়ে। লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে নিহতের পিতা সজল কান্তি দাস ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে মেয়ের লাশ সনাক্ত করেন।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৮ জানুয়ারি) শ্বশুড় বাড়ি গোলাপগঞ্জ উপজেলার আলমপুর থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন গৃহবধূ জনি রানী দাস। হঠাৎ করে গৃহবধূর নিখোঁজের বিষয়টি তাঁর স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন অন্যের সাথে পালিয়েছে বলে এলাকায় প্রচার করতে থাকে। কিন্তু মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকজনের কথায় নিহতের পিতার সন্দেহ হয়।

নিখোঁজের তিনদিনের মাথায়ও সন্ধান না পাওয়ায় (৩০ জানুয়ারি) সোমবার জনির বাবা সজল কান্তি দাস গোলাপগঞ্জ থানায় নিহতের স্বামী রঙ্গেস দে ও রঙ্গেসের বড় ভাইয়ের স্ত্রী শিল্পী রানী দেবকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। থানায় দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ গৃহবধূ জনির স্বামী রঙ্গেস দে’র ও তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী শিল্পী রানী দেবকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে শিল্পী রানী দেব ও নিহতের স্বামী জনি রানীকে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যার ঘটনা সংক্রান্তে পুলিশকে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করে। গ্রেপ্তারের পরদিন আদালতে নিহতের ভাসুরের স্ত্রী শিল্পী রানী দেব জনিকে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদীতে অজ্ঞাত এক নারীর লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে কুশিয়ারা নদী থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই সবুজ কুমার নাইডু অজ্ঞাত এই নারীর লাশ উদ্ধার করেন। অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় হাজির হন নিহত জনি রানী দাসের বাবা সজল কান্তি দাস। থানায় তিনি লাশটিকে তাঁর নিহত মেয়ে জনি রানীর হিসেবে সনাক্ত করেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.