নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭
জেলা প্রশাসনের সাথে বৈঠক শেষে পুলিশের সহায়তায় জেলা প্রশাসন কার্যালয় ত্যাগ করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন সিলেটের কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার ( ৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এক কর্মচারিকে আটক করতে এসে দুদকের কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মচারিদের তীব্র বাধার ও হামলার মুখে পড়েন। উদ্ভত পরিস্থিতিতে সিলেটের জেলা প্রশাসক দুদক কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া বৈঠকটি চলে সন্ধ্যা ৭ পর্যন্ত। বৈঠক শেষে দুদক কর্মকর্তারা সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ত্যাগ করেন।
ওই কর্মচারিসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে সিলেটের কোতয়ালী থানায় গিয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা বলে জানা গেছে। এ সময় দুদক সিলেটের পরিচালক শারমিন পারভীন উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে দুদক। এ সময় কার্যালয় থেকে এক কর্মচারিকে আটক করার সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের সাথে কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মচারিদের বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
সাড়ে ৪টার সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে অফিস সহকারি আজিজুর রহমানকে আটক করে দুদক তবে বাইরে নিয়ে আসার সময় অন্যান্য কর্মচারিদের সাথে দুদকের বাকবিতণ্ডা শুরু হলে এক পর্যায়ে আজিজুর রহমানকে ছিনিয়ে নেন কর্মচারিরা।
এদিকে কর্মচারিদের হামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন সিলেট এর ২ কর্মকর্তাসহ ৪জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের কর্মচারিদের হাতে তারা আহত হন।
আহতরা হলেন দুদক সিলেট অঞ্চলের উপ-সহকারি পরিচালক ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগ, রনজিত কুমার কর্মকার, কনস্টেবল মেছবাহ উদ্দিন চৌধুরী ও গাড়িচালক বিপ্লব।
এদিকে বৈঠক চলাকালীন সময়ে অভিযুক্ত কর্মচারি আজিজুর রহমান স্ট্রোক করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান বাংলাদেশ কালেক্টরেট কর্মচারি সমিতি সিলেটের সভাপতি আফসর আহমেদ।
তবে অভিযান ও বৈঠকের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কোন কিছু জানাননি দুদকের কর্মকর্তারা।