Sylhet Today 24 PRINT

গোলাপগঞ্জে এলাকাবাসী ও অটোরিকশা চালকদের সংঘর্ষ, গোলাগুলি

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি |  ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরশহরে জুম্মার নামাজের পর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট হামলার ঘটনায় পুলিশসহ প্রায় ১০জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য গোলাপগঞ্জ মডেল থানার এস আই শংকর চন্দ্র দাস, টিকরবাড়ী গ্রামের লোকমান আহমদ খান সহ ৮ জন সিএনজি অটোরিকশা চালক রয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৬টা ৪৫) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পৌরশহরের চৌমুহনী মসজিদ মার্কেট সংলগ্ন বিলাস বিতানের সামনে সিএনজি অটোরিকশা পার্ক করে রাখাকে কেন্দ্র করে গাড়ী চালক ও বিতানের কর্মচারীর মধ্যে কথা কাটাকাটির জের ধরে সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ও স্থানীয় টিকরবাড়ী এলাকাবাসী বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।

এ সময় দুই পক্ষ ইট-পাথর নিক্ষেপ করে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চালায়। এসময় ২৫টি সিএনজি অটোরিকশা ভাংচুরসহ স্থানীয় একটি ডেন্টাল ক্লিনিকের কাঁচের গ্লাস ভাংচুর করা হয়। দুই ঘণ্টা ব্যাপী সৃষ্ট সংঘর্ষে সিলেট জকিগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার ব্যাপী দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

খবর পেয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মীর নাসেরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে বিকাল ৩টায় ঘটনাস্থলে সিলেট শহর থেকে অর্ধশতাধিক দাঙ্গা পুলিশ আসে। তখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সাড়ে ৩টায় সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বসুনিয়া ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন ঘটনাস্থলে আসেন।

এরপর প্রায় ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিকাল ৫টায় সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

এদিকে গোলাপগঞ্জ সিএনজি অটোরিকশা চালক সমিতির সভাপতি মাখন মিয়া ব্যবসায়ীর পক্ষ নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরকে (রুহিন আহমদ খান) এই ঘটনায় উস্কানি দিয়ে অবৈধ অস্ত্র সহ প্রথমে হামলা করার অভিযোগ করে বলেন, “তারা (কাউন্সিলর গ্রুপ) পুলিশের সামনেই কয়েক রাউন্ড গুলি করে ও ইট নিক্ষেপ করে ২৫টি গাড়ী ভাংচুর করেছে, এতে প্রায় ৮জন চালক আহত হন”।

অপর দিকে কাউন্সিলর রুহিন আহমদ খাঁন এ দাবি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি অটোরিকশা সমিতির সভাপতিকে (মাখন মিয়া) বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তিনিই প্রথম চালকদের হামলার নির্দেশ দেন। পুলিশের সামনে আমার লোকজনের পক্ষ থেকে গুলির ঘটনা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ।’

এদিকে ঘটনার সূত্রপাত যাকে নিয়ে, সেই সিএনজি চালক পৌরসভার রণকেলী গ্রামের তোফায়েল আহমদ জানান, ‘আমি ঐ দোকানের সামনে গাড়ি রেখে তাদেরই দোকানে গিয়েছিলাম কিছু কেনার জন্য কিন্তু দোকানের কর্মচারি আমাকে গাড়ি সরানোর জন্য গালিগালাজ শুরু করে এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ছুরি নিয়ে আমার উপর হামলা করলে আমার বাম কানের নিকট জখম হয়’।

হামলা শুরু হলে বিপণি বিতানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি তবে দোকানটির মালিক স্থানীয় টিকরবাড়ী গ্রামের সামছুল ইসলাম বলে জানা গেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি থমথমে ও আবারো সংঘর্ষের আশংকা থাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অপরদিকে ক্ষুব্ধ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিকরা একটি বৈঠকে বসেছেন বলে জানা গেছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.