Sylhet Today 24 PRINT

বিছনাকান্দিতে নিহত শ্রমিকদের বাড়িতে শোকের মাতম, পুলিশের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দিতে পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনের সময় মাটিচাপায় নিহত তিন শ্রমিকের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। শুক্রবার সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায় নিহতদের লাশ পৌছার পর কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তাদের স্বজনরা। তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

এদিকে, শ্রমিক হত্যা ও লাশ গুম করার চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় একটি মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে দায়েরকৃত মামলায় ৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। আসামীরা হলেন- পাথর ব্যবসায়ী বিছানাকান্দির বাছির মিয়া, আজাদ মিয়া, কামাল হোসেন, চট্টগ্রামের জাহিদ মিয়া, লক্ষীপুরের রাজু মিয়া ওরফে জাহিদ হাসান। এদের মধ্যে জাহিদ মিয়া ও রাজু মিয়া ওরফে জাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তকার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন
গোয়াইনঘাট থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন।

বৃহস্পতিবার রাতে বিছনাকান্দিতে পাথর উত্তোলনকালে মাটিচাপায় তিন শ্রমিক মারা যান। সকাল হওয়ার আগেই তাদের লাশ সরিয়ে ফেলা হয়। তবে দুপুরের দিকে দুজনের লাশ সুনামগঞ্জ সদর থেকে উদ্ধার করেছে সুনামগঞ্জ থানা পুলিশ। তারা হলেন সুনামগঞ্জ সদরের গুলেরগাঁওয়ের জাকির হোসেন (২০) ও তোলা মিয়া (২৫)। এরপর নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি থেকে পরিমল (৩২) নামে আরেক শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

কোয়ারির মালিক ভোরে অ্যাম্বুলেন্সে করে গোপনে তাদের লাশ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। উদ্ধারের পর সুনামগঞ্জ সদর থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে।

নিহতের স্বজন আব্দুস শহীদ বলেন, কোয়ারিতে মাটিচাপা পড়ে কোনও শ্রমিক মারা গেলে কোয়ারির মালিক টাকা পয়সা দিয়ে ম্যানেজ করে গোপনে লাশ দাফন করে ফেলে। অনেক সময় লাশের কোনও হদিস পাওয়া যায় না।

নিহত তোলা মিয়ার মা মাইমুনা খাতুন জানান, তার তিন ছেলের মধ্যে সে ছিল দ্বিতীয়। তার মৃত্যুতে পরিবারের উপর্জনক্ষম আর কোনও পুরুষ নেই।

নিহত জাকিরের পিতা নজির মিয়া জানান, জাকির এক সপ্তাহ আগে পাথর কোয়ারিতে কাজে গিয়েছে। আজ লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলো। পাথর কোয়ারিতে নিরাপদ কাজের পরিবশে তৈরি করতে না পারলে আরও কতো মায়ের কোল খালি হবে তা কেউ জানে না।

কাঠইর ইউপির সাবেক ইউপি সদস্য আজিজুর রহমান জানান, সিলেটের পাথর কোয়ারিতে অনিরাপদ পরিবেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার গরীব শ্রমিক কাজ করেন। তাদের জীবনের কোনও নিরাপত্তা নেই।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান জানান, সুনামগঞ্জের ভাটি এলাকার হাজার হাজার শ্রমিক জীবনের মায়া ত্যাগ করে সেখানে কাজ করে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের এসআই পবিত্র কুমার সিনহা জানান, লাশগুলো গোপনে দাফন করার চেষ্টা করছিল তার স্বজনরা। পরে পুলিশ গিয়ে লাশের উদ্ধার করে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.