নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭
ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেছেন, পাঠ্যপুস্তকে রবীন্দ্রনাথসহ ১৭ জন অমুসলমানের লেখা বাদ দেয়ার যে বায়না হেফাজতে ইসলাম করেছিল সেটা পূরণ হয়েছে। রাজপথ থেকে হেরে যাওয়া তেঁতুল হুজুরের নেতৃত্বাধীন হেফাজতের দেয়া সেই ১৩ দফা কার্যকর হল পাঠ্যবইয়ে জিতে যাওয়ার মধ্য দিয়ে।
বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জননেতা পীর হবিবুর রহমানের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
সারাদেশে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারীদের ক্রিয়াশীল হতে দেখি না উল্লেখ করে তিনি বলেন, পবিত্র ধর্মকে হাতিয়ার বানিয়ে যারা দেশকে পাকিস্তান বানাতে চায়, তারা বর্তমানে ক্রিয়াশীল। ‘মাঠের রাজনীতি কার হাতে’ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এসময় তিনি আরো বলেন, গত ১০ বছরে দেশের অধিকাংশ জেলায় কোন রাজনৈতিক সভা হয়নি। হয়েছে মন্ত্রী, এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যানদের সংবর্ধনা সভা। তাতে জনগণের বন্দনা হয়নি, হয়নি জনগণের দুঃখ কষ্ট সমাধানের সভা।
পঙ্কজ ভট্টাচার্য আরো বলেন, বর্তমানে জাতীয় সংসদ ৮৪ শতাংশ ব্যবসায়ীতে ভরে গেছে। বাকী ১৬ শতাংশ যারা আছেন তারাও রাজনীতিবিদ থেকে ব্যবসায়ি হয়ে গেছেন। দেশে দুর্দিনের আওয়ামী লীগ দেখিনা, সুদিনের আওয়ামী লীগ দেখি।
স্মরণসভায় জননেতা পীর হবিবুর রহমান মানুষের মধ্যে সারাজীবন বেঁচে থাকবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, পীর সাহেবের মত মানুষদের স্মরণ করা না হলে দেশটাকে মুক্তিযোদ্ধাদের দেশ, ভাষা সৈনিকদের দেশ বলা যাবে না।
স্মরণসভায় সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি সুকেশ চন্দ্র দেবের সভাপতিত্বে ও ঐক্য ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস বাবুলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার মোঃ আরশ আলী, ঐক্য ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মুনায়েম নেহেরু, জেলা সাধারণ সম্পাদক আরিফ মিয়া, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আ.ন.ম শফিকুল হক, সাম্যবাদী দলের কেন্দ্রীয় নেতা ধীরেন সিং, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি আবুল হোসেন, মহানগর আওয়ামীলীগ নেতা কয়েস গাজী, সিলেট চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মুকির হোসেন চৌধুরী, জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম নোবেল, কুমার গণেশ পাল, আবিদ ফয়সাল, মীর আনসার প্রমুখ।