নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭
সিলেটের উন্নয়নে দাবি তুলেই দাবি আদায় করে নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সিলেটের উন্নয়নে খুবই আন্তরিক। বিশেষ করে প্রবাসীদের দাবি পূরণে তিনি সচেষ্ট রয়েছেন। এ কারণে সিলেটের সমস্যাগুলো চিহিৃত করে সেগুলো সমাধানে সবাই মিলে সোচ্চার হতে হবে। তবেই দাবি পূরণ সম্ভব হবে। সিলেটের তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন এ কথা গুলো বলেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ। সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক রানা ফেরদৌস চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সিলেটের সুনির্দিষ্ট তিনটি দাবি নিয়ে আলোচনা করা হয়। দাবিগুলোর মধ্য রয়েছে- বিমানবন্দরে বিদেশী উড়োজাহাজ অবতরণ ও দুই পাশে ফোরলেন বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা, সিলেটে আবাসিক গ্যাস সংযোগ চালু করা ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন। এই তিনটি দাবি নিয়ে সিলেটের সুধীজনেরা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
এ সময় ড. মোমেন বলেন, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখন ডোমেস্টিক বিমানবন্দরের কাঠামো রয়েই গেছে। এটিতে আন্তর্জাতিক রূপ দিতে হলে অনেক কাজ করতে হবে। রানওয়েকে তিনগুণ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি দুই পাশে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা জরুরী। বিমানবন্দর-আম্বরখানা সড়ককে চার লেনে রূপান্তর করতে হবে। এসব করতে সবার আগে বিদেশী উড়োজাহাজ অবতরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিদেশী উড়োজাহাজের সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে প্রবাসীদের ভোগান্তি কমে আসবে।
সিলেটের ঝুলে থাকা গ্যাস সংযোগের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা চলছে বলে জানিয়ে ড. মোমেন বলেন, সিলেটের গ্যাস দিয়েই গোটা দেশের চাহিদা পূরণ করা হয়। কম প্রেসারের গ্যাসগুলো সিলেটে সরবরাহ করলেই স্থানীয় চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। এখন এগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে ইতিবাচক ফল আসবে। এসময় সিলেটের স্বাস্থ্য, যোগাযোগ সহ নানা দিকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি সিলেটের দাবি নিয়ে প্রবাসীদের নানা কর্মকাণ্ড সরকারকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আরও বেশি আগ্রহ করে তুলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, সিলেট নিয়ে প্রবাসীদের দাবিগুলো খুবই চমৎকার। সেগুলোকে আমলে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করলে সিলেট আরও এগিয়ে যাবে। সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি দীর্ঘ দিনের। আশা করি সেটিও হবে জানিয়ে তিনি বলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সিলেটের মুরব্বী। তিনি সরকারের মন্ত্রী। এ কারণে মন্ত্রীকে নিয়েও একদিন বসতে হবে। এসব বিষয় তার কাছে উপস্থাপন করলে আশা করি অনেক কাজই শুরু করা যাবে।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও সিলেটের তিন দফা বাস্তবায়ন পরিষদ-নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র এর সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রানা ফেরদৌস চৌধুরী তার প্রারম্ভিক বক্তব্যে বলেন, আমরা সুদূর আমেরিকায় থাকলেও আপনাদের স্বজন। আপনাদের সুখ-দু:খের সাথী আমরা। বাংলাদেশ খুব দ্রুত মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। সুতরাং এই অবস্থায় আমরা তিনটি দাবি উপস্থাপন করলাম। আশা করি বর্তমান সরকার সেগুলো নিয়ে কাজ করবেন এবং সিলেটের উন্নয়ন অনেকাংশ বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি এম এ সালাম, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিম, এডভোকেট মুজিবুর রহমান, গণদাবী পরিষদের সভাপতি আতাউর রহমান আজাদ, সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সালাউদ্দিন আলী আহমদ, সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি স্বর্ণলতা রায়, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক শফিউল আলম নাদেল, অধ্যক্ষ ও সাংবাদিক লিয়াকত শাহ ফরিদী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার বদরুল ইসলাম শোয়েব, কলামিস্ট আপ্তাব চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খন্দকার শিপার আহমদ, আটাব এর সভাপতি আব্দুল জলিল প্রমুখ।
এছাড়া অনুষ্ঠানের শুরুতেই তিনটি দাবি নিয়ে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ওয়েছ খছরু, সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম নবেল ও একাত্তর টেলিভিশনের সিলেট ব্যুরো প্রধান ইকবাল মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে সিলেট-ঢাকা ফোরলেন সড়ক নির্মাণ, সিলেট-আখাউড়া ডাবল রেললাইন নির্মাণ, সিলেটের অত্যাধুনিক ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লিংক রোড নির্মাণ, সিলেটে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ, সদর হাসপাতাল নির্মাণ, সুরমা খনন, ওসমানী বিমানবন্দরে কার্গো টার্মিনাল নির্মাণ, পর্যটন শিল্প বিকাশ, মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ, চট্টগ্রামের আদলে একটি আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিষদ গঠন, ডিজিটাল স্মার্ট সিলেট নির্মাণ সহ বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা করেন বক্তারা।