Sylhet Today 24 PRINT

মাধবপুরে শিশুসহ মায়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

মাধবপুর প্রতিনিধি |  ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের ঘিলাতলী গ্রামে শিশুসহ মায়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে স্বামী ও শ্বাশুড়ি পলাতক রয়েছেন। এটি পরিকল্পিত হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার দুপুরে পুলিশ পিন্টুর ঘর থেকে ঘরের তীরের সঙ্গে ফাঁস লাগানো অবস্থায় মিলি ও তার ছেলে শিশু পথিকের লাশ উদ্ধার করে।

জানা যায়, সকালে মিলির দূর সম্পর্কের জ্বা রিক্তা দেব তাদের ঘরে সামনে গিয়ে মিলিকে ডাকলে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে ঘরের ভিতর প্রবেশ করতেই ঝুলন্ত অবস্থায় মা ছেলেকে দেখতে পেয়ে চিৎকার করে উঠেন। এ সময় তার চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন এগিয়ে আসেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে শত শত উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় করে। এ মৃত্যু নিয়ে জনমনে নানা গুঞ্জন দেখা দিয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে মাধবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম পলাশসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

প্রায় ৩ বছর পূর্বে মৌলভীবাজার জেলার কাশিপুর গ্রামের মঞ্জুলাল দেবের মেয়ে মিলির সঙ্গে বিয়ে হয় ঘিলাতলী গ্রামের মৃত প্রিয় লাল দেবের ছেলে পিন্টু দেবের সঙ্গে। এর মধ্যে ছেলে সন্তান পথিকের জন্ম হয়। বিয়ের পর থেকেই শ্বাশুড়ি পঞ্চমী দেবের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না মিলির। প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হত।

মিলির বোন পার্শ্ববর্তী দূর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা মাপ্পি দেব জানান, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত এসে দেখি ঘরের ভিতর আমার বোন ও তার সন্তানের লাশ ঝুলছে। তার স্বামী ও শ্বাশুড়ি এ সময় বাড়িতে ছিল না। আমার বোনকে তার শাশুড়ি মানসিকভাবে নির্যাতন করত। অনেক বার সে আমার কাছে দুঃখের কথা বলেছে। কিন্তু আমরা দুই বোন আমাদের বাবা-মাকে বিষয়টি জানাই নি। তার দুঃখ কষ্ট যে এত ভারি হবে তা বুজতে পারিনি।

পার্শ্ববর্তী বাড়ির মিলির দূর সম্পর্কের জ্বা রিক্তা দেব জানান, প্রতিদিন সকালে মিলি তার বাচ্চাকে আমার কাছে রেখে বিভিন্ন কাজ করত। পরে আমাদের সঙ্গে হাসি খুশিভাবে সময় কাটাত। ওইদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন তাদের কোন সাড়া শব্দ পাচ্ছিলাম না আর বাচ্চাকে আমার কাছে রেখে যায়নি তখন কৌতুহলবশত তাদের ঘরের গ্রিলে ধর ধাক্কা দিয়ে ডাকতে থাকি। তখনও কোন শব্দ না পেয়ে গ্রিল খুলে ভিতরে গিয়ে দেখি মিলি ও তার শিশু সন্তান পথিক ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলছে। এ দৃশ্য দেখে আমি হতবাক হয়ে যায়। পরে চিৎকার দিলে বাড়ির অন্যান্য লোকজন ছুটে আসে।

এ সময় স্বামী পিন্টু বাড়ির বাইরে ছিল। আর মিলির শ্বাশুড়ি গত কয়েকদিন যাবত তার মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

জানা যায়, সোমবার সকালে শ্বাশুড়ি খবর পেয়ে বাড়িতে ছুটে আসেন। স্ত্রী সন্তানের মৃত্যুর খবর পেয়ে পিন্টুও বাড়িতে আসে। কিন্তু সরজমিনে গিয়ে পিন্টু ও তার মা পঞ্চমী দেবকে খোঁজে পাওয়া যায়নি। পুলিশও পিন্টুকে অনেক খোঁজ করে তাঁকে পায়নি।

থানার পরিদর্শক(তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার এবং আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য লাশ দুটি হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে মিলির স্বামী পিন্টু ও তার মাকে কোথাও খোজে পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান আরিফ ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, এ মৃত্যু রহস্যজনক। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।



টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.