নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭
সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ছবি: দিব্য জ্যোতি শী
২০১৩ সালের ২২ ফেরুয়ারি ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে একটি মিছিল থেকে ভাংচুর করা হয়েছিলো সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। এরপর নতুন রুপে এটি পুণনির্মান করা হয়। সে সময় শহীদ মিনারের ডান দিকে মাটির নিচে তিন হাজার স্কয়ার ফুট জায়গায় ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, স্মৃতিচিহ্ন, আলোকচিত্রসম্বলিত একটি সংগ্রহশালা ও পাঠাগার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো।
নির্মান কাজ শেষে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে উদ্বোধন করা হয় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। তবে এখনো পর্যন্ত শেষ হয়নি সংগ্রহশালা ও পাঠাগার নির্মান কাজ।
সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে, বিজয় দিবসে নবনির্মিত শহীদ মিনার উদ্বোধনের জন্য ২০১৪ সম্পূর্ণ কাজ শেষ না করেই উদ্বোধন করা হয়েছিলো শহীদ মিনার। তখন বলা হয়েছিলো, দ্রুততম সময়েই মধ্যেই শেষ করা হবে বাকী কাজ। তবে উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বন্ধ হয়ে পড়ে সংগ্রহশালা নির্মানের কাজ।
উদ্বোধনের পর বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি ফের শুরু হয় পাঠাগার ও সংগ্রহশালা নির্মান কাজ। তবে শহীদ মিনারে কমপ্লেক্সে কিছু ত্রুটি থাকার কারণে এখনো তা চালু করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিস্টরা।
এ ব্যাপারে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমদ মিশু বলেন, গত ১৬ ডিসেম্বর শহীদ মিনারের পাঠাগার ও সংগ্রশালার উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ভবনে কিছু ত্রুটি থাকার কারণে তা উদ্বোধন করা যায় নি।
মিশু বলেন, বৃষ্টির দিনে শহীদ মিনার কমপ্লেক্সের ভবনের দেয়াল চুইয়ে পানি ভেতরে ঢুকে পড়ে। এই ত্রুটি না সারিয়ে এগুলো চালু করা যাবে না। এছাড়া বই রাখার জন্য রেক এখনো বসানো হয়নি। তবে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন স্মৃতি ও স্মারক সংগ্রহ চলছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, আগামীকাল অর্থমন্ত্রী সিলেট আসবেন। তখন আমরা তাঁর কাছে ২৬ মার্চ এটি চালু করার দাবি জানাবো।
সিলেট শহীদ মিনার নির্মান ও ব্যবস্থাপনায় রয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব শহীদ মিনারের বাইরে কোন কাজ বাকী নেই জানিয়ে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শহীদ মিনারের ভেতরে পাঠাগার ও সংগ্রহশালার কাজ চলছে। আগামী ২/৩ মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে।
পরবর্তীতে বুদ্ধিজীবীদের কবরস্থান সংস্কার, চিত্র প্রদর্শনীর জায়গায় বসার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
সিসিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উদ্যোগে সিলেট সিটি করপোরেশন ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ শহীদ মিনারটি পুননির্মান করে। নবনির্মিত শহীদ মিনারের নকশাটি করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শুভজিত চৌধুরী।
‘চেতনায় আন্দোলিত ভূমি থেকে জেগে ওঠা বাঙালির আবহমান সংগ্রামী ঐতিহ্য’-এই মূল থিম (বিষয়বস্তু) ধরে সিলেট কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার পুণঃনির্মাণ করা হয়েছে।
শহীদ মিনার এলাকায় ৩৩ শতাংশ জায়গা রয়েছে। এর মধ্যে ৮ শতাংশ জায়গার মধ্যে শহীদ মিনার স্থাপিত হয়েছে। মূল স্তম্ভের পাশাপাশি শহীদ মিনারে রয়েছে মুক্তমঞ্চ ও মহড়াকক্ষ।