Sylhet Today 24 PRINT

নামে মডেল বিদ্যালয়, অথচ মেঝেতে বসে ক্লাস!

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি |  ৩০ এপ্রিল, ২০১৫

বহুলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার একমাত্র মডেল এ বিদ্যালয়টির অবস্থান উপজেলা পরিষদ থেকে মাত্র ৩শ’ গজ দূরে। শত বছরের পুরনো এ বিদ্যালয়টি নামে মডেল হলেও বাস্তবচিত্র পুরোটাই ভিন্ন। ১ হাজার ২২ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র ৮০ জোড়া ব্রেঞ্চ । তাও আবার জোড়াতালি দেয়া। তাই বেে বসে পাঠ গ্রহণ শিক্ষার্থীদের জন্য অনেকটাই ভাগ্যের বিষয়। আর কয়েকটি কক্ষে তো ব্রেঞ্চ একজোড়াও নেই। ফলে মেঝেতে বসেই নিতে হচ্ছে জীবনের বুনিয়াদি শিক্ষা। 


সদর উপজেলার বহুলা গ্রামে ১৯১০ সালে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালীন জমিদার গোপাল পোদ্দারের ছেলে আনন্দ মোহন পোদ্দার ও হেমেন্দ্র মোহন পোদ্দার। ৫৬ শতক ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয় মডেল স্কুলে রূপান্তর হয় ১৯৯৯ সালে। আর ২০১৩ সালে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত হয়। বিদ্যালয়ে ৩টি ভবন থাকলেও একটির অবস্থা তথৈবচ। ১৯৬১ সালে নির্মিত ওই আধাপাকা ঘরটিতে শ্রেণিকক্ষ রয়েছে ৫টি। যে কোন মুহূর্তেই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। অপর ভবনগুলোতে দু’টি করে ৪টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। এই ৯টি কক্ষ নিয়েই চলছে পাঠদান কার্যক্রম। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিশু শ্রেণিতে ৩৭ জন, ১ম শ্রেণির দু’টি শাখায় ১৮৭ জন, ২য় শ্রেণির দু’টি শাখায় ১৪৪ জন, ৩য় শ্রেণির ৩টি শাখায় ২৬১ জন, ৪র্থ শ্রেণির দু’টি শাখায় ১৫৭ জন, ৫ম শ্রেণির দু’টি শাখায় ১০৯ জন, ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৬৭ জন, ৭ম শ্রেণিতে ৩৪ ও ৮ম শ্রেণিতে ২৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব ছাত্রছাত্রীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ১১ জন। অথচ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী প্রতি শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ৪০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক থাকার কথা। হিসেব অনুযায়ী এ বিদ্যালয়ে শিক্ষক থাকার কথা ২৫ জন। সেই সাথে একই সংখ্যক শ্রেণি কক্ষ। আর বসার বে ৪ জন শিক্ষার্থী করে হিসেব করলেও ২৫০ জোড়া থাকার কথা। অথচ পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা গ্রহণ করা হলেও পরীক্ষার সময় প্রতি বেে ৫ জন করে শিক্ষার্থী বসে পরীক্ষা দেন। মডেল এ বিদ্যালয়ের ঘাটতি এখানেই শেষ নয়। বিদ্যালয়টিতে নেই কোন টিউবওয়েল বা বিশুদ্ধ পানির সংস্থান, নেই সীমানা প্রাচীর, নেই ছাত্রীদের শৌচাগার। খেলাধুলার কথা তো ভাবাই যায় না। 


এতো সীমাবদ্ধতার পরও এই বিদ্যালয়ের সাফল্য কিন্তু কম নয়। গত বছরের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্যের পাশাপাশি বৃত্তি পেয়েছেন ২ শিক্ষার্থী। একই রকম সাফল্য ছিল এর আগের বা তারও আগের বছর। এছাড়া ২০০৭ সালে এ বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক সৈয়দা রওশন সুলতালা জাতীয় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন।
প্রধান শিক্ষক শিরিন আক্তার চৌধুরী জানান, এ বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো অনেকদিনের। আদর্শ বিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী না হোক অন্তত ১৬টি শ্রেণিকক্ষ ও ১৬ জন শিক্ষক হলেও পালাক্রমে পাঠদান করা সম্ভব। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। 


বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শামছুজ্জামান চৌধুরী বলেন- বিদ্যালয়ে ভবন, আসবাবপত্র, সীমানা প্রাচীর ও শিক্ষক সংকট রয়েছে। বিশেষ করে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত হওয়ায় পর অতিরিক্ত ৮ জন শিক্ষকের প্রয়োজন দেখা দেয়। ৩ জন শিক্ষককে প্রেষণে দেয়া হলেও বর্তমানে ১ জন দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি শহরের বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকার পরও আমার বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষককে শহরে প্রেষণে নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, জেলা পরিষদ ও শিক্ষা অফিসে বার বার যোগাযোগ করা হলেও কোন কার্যকরী ফল পাওয়া যায়নি। 


জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান, বহুলা মডেল স্কুলে শীঘ্রই আরো দু’জন শিক্ষক প্রেষণে দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও ঢাকায় বিদ্যালয়টির চাহিদা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। পিডিবি-৩ এর অধীনে ধাপে ধাপে বিদ্যালয়টির উন্নয়ন করা হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.