নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭
লিডিং ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, শিল্পায়ন হতে হবে দেশের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য। সিলেটে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা থাকলেও শিল্প বিকাশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সকল সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে সিলেটে ব্যাপক হারে শিল্পায়ন করতে সরকারসহ সকল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মানব সম্পদকে যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্পায়ন এগিয়ে নিতে হবে।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি'র ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের সমাপনী দিবসে আয়োজিত ‘সিলেট অঞ্চলে বিনিয়োগঃ সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি'র সহ-সভাপতি মাসুদ আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার নগরীর আমান উল্লাহ কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আনোয়ার হোসেন, মদনমোহন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি এম এ সালাম চৌধুরী, গ্রীণ ডেল্টা ইন্সুরেন্স কোম্পানীর সাবেক চেয়ারম্যান ও সিলেট চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এম মুহিবুর রহমান, পর্যটন উদ্যোক্তা ডা. জাকারিয়া হোসেন, সিলেট চেম্বারের পরিচালক মোঃ এমদাদ হোসেন এবং কী-নোট পেপার উপস্থাপন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফজলে এলাহী মোঃ ফয়সাল।
কী-নোট পেপারে সিলেটে শিল্পায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের সমস্যা ও সম্ভানার কথা তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী আরো বলেন, বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। অধিকাংশ পর্যটক বিশেষজ্ঞ মনে করেন কক্সবাজারের পর শ্রীমঙ্গল হচ্ছে অন্যতম বড় এবং মনোমুগ্ধকর পর্যটন কেন্দ্র। সুতরাং পর্যটন ক্ষেত্রেও বিনিয়োগ করা যেতে পারে।এক্ষেত্রে সিলেটের রাতারগুল, বিছনাকান্দি কিংবা টাঙ্গুয়ার হ্ওারকে উন্নত পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করার পরিকল্পনা করা যেতে পারে।
শিল্প ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত কাঁচামালে প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে প্রধান অতিথি আরো বলেন, বাজার চাহিদা অনুসারে রো ম্যাটেরিয়ালসের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা যায়। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও যথেষ্ট সম্ভাবনার দ্বার খোলা আছে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশের মধ্যে শিল্পায়নের জন্য বিশেষ করে সিলেটের ক্ষেত্রে আইটি পার্ক তৈরী করা যেতে পারে। সরকারসহ সবার সমন্বয়ে উন্নত শিল্প প্রতিষ্ঠা সম্ভব।কারণ দেশ আর আগের মতো নেই।দেশে এখন শিল্পায়নের পরিমাণ শতকরা আটাশ ভাগ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হল শতকরা সাত ভাগ।
মদনমোহন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, সিলেটের অধিকাংশ পরিবার একটি প্রবাসী মানুষের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। সেই পরনির্ভরশীলতাকে পেছনে ফেলে মানবসম্পদকে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য কারিগরী শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। শিল্পায়নের ক্ষেত্রে বাধা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনে সরকারের সহযোগিতা নিতে হবে।
সিলেট চেম্বারের সিনিয়র অফিসার মিনতি দেবীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেল্ওায়াত করেন চেম্বারের পরিচালক মুকির হোসেন চৌধুরী।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট চেম্বারের পরিচালক ও ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন কমিটির আহবায়ক খন্দকার সিপার আহমদ, পরিচালক মোঃ হিজকিল গুলজার, জিয়াউল হক, মোঃ সাহিদুর রহমান, মোঃ লায়েছ উদ্দিন, পিন্টু চক্রবর্তী, নুরুল ইসলাম, মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান(ভূট্টো), আমিরুজ্জামান চৌধুরী, এহতেশামুল হক চৌধুরী, মুকির হোসেন চৌধুরী, আব্দুর রহমান, চন্দন সাহা, মোঃ বশিরুল হক, প্রাক্তন সহ সভাপতি মঞ্জুর আহমদ, ইয়াদ-ই-এলাহী, সিলেট কয়লা আমদানীকারক গ্রুপের সাবেক সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উপ পরিচালক ফখরুল ইসলাম, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ, সিলেট শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা প্রধান ফরিদ আহমদ।
এছাড়াও শিক্ষাবিদ, ব্যাংকার , বিনিয়োগকারী ও সিলেট চেম্বারের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি'র ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের সমাপনীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্টান অনুষ্ঠিত হয়।