নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৪ মার্চ, ২০১৭
সিলেটে দশদিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের জন্য বেঙ্গল ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। একইসঙ্গে সিলেটবাসীর কোনো আচরণে দুঃখ পেলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সিলেট নগরীর আবুল মাল আব্দুল মুহিত কমপ্লেক্সে দশদিনব্যাপী বেঙ্গল সংস্কৃতি উৎসবের শেষ দিন শুক্রবার সকালে 'আগামীর সিলেট' নিয়ে বিশেষ উপস্থাপনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে এমন আহ্বান জানান কামরান। উৎসবস্থলের সৈয়দ মুজতবা আলী মঞ্চে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে কামরান বলেন, সিলেটবাসীকে বিগত ১০ দিন ধরে যে সুস্থ বিনোদনের সুযোগ করে দিয়েছে বেঙ্গল, তার জন্য বেঙ্গল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। সেই সাথে সিলেটবাসীর কোন ধরনের আচরণে সামান্যতম দু:খ পেয়ে থাকলে আপনারা তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
এ অনুষ্ঠানে বেঙ্গল ইন্সটিটিউটের ডিরেক্টর জেনারেল কাজী খালেদ আশরাফ, জীনবিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী, জেরিনা হোসেন ও বেঙ্গল ইন্সটিটিউটের ডিরেক্টর (রিসার্চ) সাইফুল হক বক্তব্য রাখেন।
বেঙ্গল উৎসবের তৃতীয় দিন (২৪ ফেব্রুয়ারি) সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে কিছু দর্শকের বিরুদ্ধে উশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ উঠে। এসময় ক্ষোভ সামলাতে না পেরে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়েরও উশৃঙ্খল দর্শকদের উদ্দেশে রুঢ় বক্তব্য দেন।
পরদিন অনেকেই ফেসবুকে আব্দুল খায়েরের বক্তব্যের নিন্দা জানান ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আবুল খায়েরকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দেয় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সিলেট। ফেসবুকে ইভেন্ট খুলে মানবন্ধনও আহ্বান করা হয়।
ক্ষোভ আঁচ করতে পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বিবৃতি দিয়ে নিজের আচরণের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান মঞ্চে উঠেও তিনি ফের দুঃখ প্রকাশ করেন।
আবুল খায়েরের এই দুঃখ প্রকাশের পর উশৃঙ্খলতাকারী দর্শক এবং বিবৃতি দেওয়া সাংস্কৃতিক জোটের সমালোচনা করেন কেউ কেউ।
এসব ঘটনার কথা স্মরণ করে শুক্রবার উৎসবের শেষ দিনে 'ক্ষমাসুন্দর' দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানান কামরান।
অবশ্য দু'একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যতিরেকে সিলেটর দর্শকদের প্রশংসাই করেছেন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রায় সকল শিল্পীরা। প্রতিদিনই প্রচুর সংখ্যক দর্শক উপস্থিত হয়েছেন অনুষ্ঠান উপভোগ করতে। শেষ দিনে দর্শক উপস্থিতি ছিলো সর্বোচ্চ। অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে জানানো হয়, শুক্রবারের দর্শক সমাগম ছিলো ৪৫ হাজার। শ্রীকান্ত আচার্যের মতো শিল্পীও বলেছেন- এতো দর্শকের সামনে তিনি কোনোদিন গান করেননি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সমাপনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়েরও বারবার সিলেটবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সিলেটবাসী আমাদের যে আদর দেখিয়েছেন, ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ ও অভিভূত। প্রতিটি দিন সিলেটবাসী আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এখানকার ৬০ শতাংশ জায়গা সবুজ ও পানিময়। এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ভিন্নতাও অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে ভিন্ন। অসাধারণ ও সমৃদ্ধময় এখানকার সংস্কৃতি। উৎসব আয়োজনে সিলেটবাসীর সহযোগিতায় আমরা সত্যিই মুগ্ধ। আমি প্রকৃতপক্ষেই সিলেটের প্রেমে পড়েছি।’