কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি | ০৪ মার্চ, ২০১৭
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় গরুচোরের হামলায় এক গৃহকর্তার মৃত্যুর পর পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে-গুলিতে আরও একজন মারা গেছেন; সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।
শনিবার (৪ মার্চ) সকালে উপজেলার মোস্তফানগর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন উপজেলার মোস্তফানগর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে জিলু মিয়া (৬০) ও দক্ষিণ রাজনগর গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে মফিজুর রহমান (৫০)।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা জানান, আজ ভোরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের মোস্তফানগর গ্রামে একদল গরুচোর হানা দেয়। এ সময় চোরদেরদের হামলায় একজন নিহত হয়। এ ঘটনায় ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জনতা একজনকে চোর দাবি করে আটক করে। পরে ওই ব্যক্তিকে পুলিশ উদ্ধারের জন্য গেলে জনতা-পুলিশ সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষে আরো একজনের মৃত্যু হয়।
সুজ্ঞান আরো জানান, এ ঘটনায় পুলিশসহ কমপক্ষে ৪৫ জন আহত হন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সংঘর্ষে এসআই তরিকুল, কনস্টেবল আমিনুল, সাদ্দাম ও ইয়াহইয়া গুরুতর আহত হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত মফিজ মিয়ার স্বজন ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মাসুক মিয়া জানান, সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের গুলিতে মফিজ মিয়া মারা যান।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল লেইছ।
ঘটনাস্থলে থাকা কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রকিব জানান, চুরির পর গ্রামবাসী সোনাই মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। খবর পেয়ে সকালে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় সোনাই মিয়ার পক্ষে-বিপক্ষে গ্রামের দুদল লোক অবস্থান নেয়।
এ নিয়ে বাদানুবাদের একপর্যায়ে গ্রামের দুটি পক্ষ ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে তিনিসহ ৪৫ জন লোক আহত হন। তাঁদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান ফাতেমা জানান, পুলিশ সকাল ৮টার দিকে আটক চোরকে উদ্ধার করে আনতে গেলে গ্রামবাসী বাধা দেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি ছুঁড়ে।