জগন্নাথপুর প্রতিনিধি | ০৬ মার্চ, ২০১৭
আজ (সোমবার) অনুষ্ঠিত হবে জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এবার প্রথম বারের মত দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোটারদের উৎসাহ উদ্দিপনাও অনেক বেশি।
তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তবে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী একক থাকায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের চেয়ে সুবিদাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি। তবে ক্ষমতাসীন দলে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় দলটি বিপাকে পড়েছে বলে ভোটারদের অভিমত।
ভোটারদের মতে, শেষদিকে দলের ইমেজ ও নৌকা প্রতীকের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামীলীগ প্রার্থী আকমল হোসেন মূল প্রতিদ্ধন্ধিতায় আসতে পারেন । এদিকে, আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তাদির আহমদ মুক্তা আঞ্চলিক ভোট প্রতিযোগিতায় চমক দেখাতে পারেন বলে অনেকেই ধারণা করছেন।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীসহ ৩ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তাঁরা হলেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্ব আকমল হোসেন (নৌকা)। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও গেল উপজেলা নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি বিএনপি নেতা আলহাজ্ব আতাউর রহমান (ধানের শীষ) এবং আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদির আহমদ মুক্তা (আনারস)।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন । আওয়ামী মনোনীত প্রার্থী সাবেক উপজেলা যুবলীগ নেতা বিজন কুমার দেব (নৌকা) ও আওয়ামী বিদ্রোহী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন ( তালা) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সোহেল আহমদ খান টুনু ( ধানের শীষ ) জমিয়তের প্রার্থী কাসেমী (খেজুর গাছ) ও সমাজ সেবী ফয়জুল হক ( টিউবওয়েল) পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন ।
তাদের মধ্যে আওয়ামীলীগ মনোনীত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজন কুমার দেব ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সোহেল আহমদ খান টুনুর মধ্যে প্রতিদ্ধন্ধিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী বিদ্রোহী কামাল উদ্দিন মূল প্রতিদ্ধন্ধিতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছেন । আওয়ামী মনোনীত প্রার্থী হিসাবে বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাজেরা বারী (নৌকা) বিএনপি মনোনীত ফারজানা আক্তার (ধানের শীষ) ও সতন্ত্র প্রার্থী সুফিয়া খানম (ফুটবল) । এর মধ্যে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী হাজেরা বারী ও বিএনপি মনোনীত ফারজানা আক্তারের মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। এবারের নির্বাচনে প্রার্থীরা ভোটারদের মাঝে ব্যস্থ সময় পার করলেও ভোটাররা নীরব । তারা যোগ্য প্রার্থীকেই বেঁচে নেবেন এটাই তাদের প্রত্যাশা ।
নির্বাচনকে অবাধ সুষ্টু ও শান্তিপূর্ন করতে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি গ্রহন করেছে উপজেলা প্রশাসন । আজ নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রে কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পৌচানো হয়েছে। আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা ভোট কেন্দ্রে অবস্থান করেছেন।
এ ব্যাপারে সহকারী রিটানিং অফিসার ও জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ জানান। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের সার্থে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষনিক নির্বাচনী এলাকায় নিয়োজিত থাকবেন। যে কোন মুল্যে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সফল করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি ।
প্রত্যেক নির্বাচনের মেয়াদ ৫ বছর হলেও জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৭ বছর পর। সর্বশেষ ২০০৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দিলে অবশেষে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১২ সালে সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউপির শাহারপাড়া কেন্দ্রে পূণরায় ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। ফের ভোট গ্রহনে অল্প ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আকমল হোসেন নির্বাচিত হন । কিন্তু তাঁর ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা হলে তিনি তাঁর ৫ বছর মেয়াদের জন্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে তাঁকে ৫ বছর দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে নির্দেশ প্রদান করেন আদালত।
চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হলে নির্বাচন কমিশন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আজ একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্টিত হচ্ছে । নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটার ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮৩ হাজার ৬৯২ ও নারী ভোটার ৮৩ হাজার ৮০৭ জন মোট কেন্দ্র সংখ্যা ৮৭টি।