Sylhet Today 24 PRINT

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনানোতেই তাঁর আনন্দ (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৭ মার্চ, ২০১৭

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাত মার্চের ভাষণ পুরোটাই মুখস্থ মো. ফেরদৌস মিয়ার। বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠ অনুকরণ করে ও তাঁর মতো অঙ্গভঙ্গি করে সেই ভাষণ রাস্তাঘাটে লোকজনদের শুনিয়ে থাকেন তিনি। এতেই আনন্দ ফেরদৌস মিয়ার।

জানালেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা ছেলেবেলা থেকেই। সেই ভালোবাসা থেকে বারবার শুনতেন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ। একপর্যায়ে তা মুখস্থ হয়ে যায়। এখন লোকজনকে ঐতিহাসিক সেই ভাষণ শুনিয়ে আনন্দ পান তিনি।

জিন্দাবাজার এলাকায় কয়েকজন লোক জড়ো দেখলেই বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন ফেরদৌস মিয়া। জনতা রাজি হলেই তিনি তর্জনী উঁচিয়ে শুরু করেন, ভাইয়েরা আমার... আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না...। অনর্গল বলে যেতে থাকেন বাঙালির মুক্তির বার্তাবাহক সে ভাষণ।

সম্প্রতি এক সন্ধ্যায় জিন্দাবাজার এলাকার রাজা ম্যানশনের সামনে জনাদশেক লোকের জটলার মধ্যখানে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ দিচ্ছিলেন ফেরদৌস। মোহজাগানিয়া সেই ভাষণ শুনতে ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়া অনেকেই দাঁড়িয়ে পড়ছিলেন। সে সন্ধ্যায়ই কথা হয় তাঁর সাথে।

পেশায় পান দোকানদার ফেরদৌস মিয়ার বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার পিরােজপুর গ্রামে। জন্ম ১৯৬৬ সালে। দারিদ্রতার কারণে লেখাপড়া বেশি দূর এগোয়নি। দারিদ্রতা দূর করতেই ১৯৯৩ সালের দিকে সিলেট নগরে আসা। দারিদ্রতা দূর হয়নি যদিও, তবু নগরী আর ছাড়া হয়নি তাঁর।

প্রথমে নগরের একটি হোটেলে চাকরী নেন। বর্তমানে জিন্দাবাজার এলাকায় পান সিগারেট বিক্রি করেন।

ফেরদৌস মিয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ছোট ছিলাম। যুদ্ধের সময় ও তার পরে এলাকায় দেখতাম মানুষ 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' শ্লোগান দিয়ে মিছিল করতো। তাদের পিছু নিয়ে তখন শ্লোগান ধরতাম। মানুষজন রেডিওতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনতো। তখন তো পুরো এলাকায়ই রেডিও ছিলো না। দূর দূরান্তে গিয়ে অনেক মানুষ জড়ো হয়ে তাঁর শেখ মুজিবের ভাষণ শুনতো। আমিও বড়দের সাথে যেতাম। কণ্ঠ শুনেই তাঁর প্রতি ভালোলাগা জন্ম হয়। তাঁর ভাষণের প্রেমে পড়ে যাই।

বলতে থাকেন ফেরদৌস মিয়া- অনেকবার শুনতে শুনতে সাত মার্চের ভাষণ অনেকটাই আমার মুখস্থ হয়ে যায়। তবু যত শুনি, ততই ভালো লাগে। এই ভাষণই একপর্যায়ে আমার নেশা হয়ে হয়ে যায়। হেঁটে যাওয়ার সময়ও এটি বিড়বিড় করতে থাকি। ঘুমের মধ্যেই বিড়বিড় করতে থাকি সে ভাষণ। মাঝে মাঝে স্ত্রী বিরক্ত হন।

৯৩ সালের দিকে পুরো ভাষণটা আমরা মুখস্থ হয়ে যায়। তখন আশপাশের অনেককে শোনাতাম। এখন অনেকেই বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনানোর জন্য আমার কাছে আবদার করে। আমি সবাইকেই শোনাই।

এই ভাষণ সবারই বারবার শোনা উচিত, অভিমত ফেরদৌস মিয়ার।  

ব্যক্তিজীবনে দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক ফেরদৌস মিয়া। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বাকি তিন ছেলে-মেয়ে স্কুলে পড়ে। সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতেই থাকেন স্ত্রী।

পরিবারের কথা উঠতেই হতাশা ভর করে ফেরদৌস মিয়ার কণ্ঠে। ছেলেমেয়েদের সিলেটে এনে রাখার সামর্থ নাই। গ্রামেও ভালো করে পড়ালেখা করাতে পারি না। টাকার অভাবে সবসময় বাড়িও যাওয়া হয় না- বলেন ফেরদৌস মিয়া।

ভাষণ শুনে অনেকেই চা-পান খাওয়ায়। একজন খুশি হয়ে একটা পাঞ্জাবি উপহার দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.