নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ মার্চ, ২০১৭
বর্তমান সরকার ‘বাংলাদেশ নাগরিক আইন’ নামে একটি কালো আইন তৈরি করছে। যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিএনপিকে দমিয়ে দেয়া। কিন্ত এ আইনে দেশের মানুষেরই ক্ষতি হবে। প্রবাশীরা হারাবে নাগরিকত্ব। আর জনগন বিরোধী এ আইন সরকারের পতন ঘটাবে।
শনিবার দুপুরে সিলেট নগরীর মেন্দিবাগস্থ একটি হোটেলের কনফারেন্স হলে সিলেট মহানগর বিএনপি আয়োজিত ‘বাংলাদেশ নাগরিক আইন ২০১৬ খসড়া-নাগরিক ভাবনা’ বিষয়ক আলোচনা সভায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনরা এমন মন্তব্য করেন।
এসময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, দেশের সব আইন জনগনের ভালোর জন্য তৈরি করা হয়। কিন্তু এ আইন জনগন বিরোধী। তিনি দেশের সর্বত্র আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এ আইনে প্রবাসীদের তৃতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করা হচ্ছে। যার কারণে দেশের অগ্রগতির অন্যতম দ্বাবিদ্বার প্রবাশীরা সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।
উদ্দেশ্য প্রণোদিত এ আইনটি নাগরিকত্বের বিষয়ে বৈষম্য সৃষ্টি করবে বলে মন্তব্য করেন প্রাইভেটাজাইশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এ আইনের কারণে নাগরিকরা সমান অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। বিশেষ করে রেমিটেন্স আসা বন্ধ হয়ে যাবে। যার কারণে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
দ্বৈত নাগরিক এবং নাগরিকদের অধিকারের ক্ষেত্রে এ আইনটি ত্রুটিপূর্ন বলে উল্লেখ করে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রভিসি শিক্ষাবিদ এ এফ এম ইউসুফ হায়দার, বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি সাংবাদিক রুহুল আমীন গাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক নকিব মো. নসরুল্লাহ, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গনিত বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজেদুল করীম, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হাসান জীবন, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক জাকির হোসেন ভূইয়াসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনরা।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন।