সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৯ মার্চ, ২০১৭
সিলেটের বিয়ানীবাজারের আছিরগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার অনিয়মের কারণে বিদ্যালয়টি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অবিলম্বে তাকে বিদ্যালয় থেকে প্রত্যাহার করা না হলে গ্রামে এনিয়ে ঘটে যেতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
শনিবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে গ্রামবাসীর পক্ষে এমন অভিযোগ করেন উপজেলার ১০ নং উত্তর বাদেপাশা ইউনিয়নের আমকোনা গ্রামের মুক্তদির আলী লাল মিয়া। সংবাদ সম্মেলনে অর্ধশতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন। লাল মিয়ার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আবুল কাসেম।
বক্তব্যে বলা হয় হয়, প্রধান শিক্ষক হয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের কোন সার্কুলার ছাড়াই সাইনবোর্ড লাগিয়ে নিজে নিজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন মো. শফিউল আলম। তিনি নিজের মত করে বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। কলেজ শাখা থেকে সরকার নির্ধারিত ২৮’শ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি নেওয়ার কথা অথচ নেওয়া হয় ৪২‘শ টাকা করে। একইভাবে স্কুল শাখা থেকে নেওয়ার কথা ৮‘শ টাকা। নেওয়া হয় ১২’শ ৪০ টাকা। বর্তমানে বিদ্যালয়ের মাসিক ফি বাড়ানোর পায়তারা করছেন প্রধান শিক্ষক।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, সঠিক সময়ে শিক্ষার্থী ও অন্যান্য শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে আসলেও শফিউল আলম সিলেট নগরী থেকে গিয়ে হাজির হন সকাল সাড়ে ১১ টায়।
বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান না করিয়ে এইচএসসি, এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোচিং ফি হিসাবে প্রতিমাসে এক হাজার টাকা করে নেন। এছাড়া খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের কথা বলে ম্যানেজিং কমিটির কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়েও ওই পদ সৃষ্টি করা হয়নি। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রশংসাপত্র এবং মূল সনদপত্র নিতে ৫‘শ টাকা করে মোট ১‘হাজার টাকা নেওয়া হয়। একইভাবে উপবৃত্তির টাকাও ব্যাংকে জমা করা হয় না।
বিভিন্ন অভিযোগ এনে বলা হয়, ২০১২ সালের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে ৭ প্রার্থীর কাছ থেকে মনোনয়ন ফি বাবদ ৩৫ হাজার, ২০১৪ সালের নির্বাচনে ৬ প্রার্থীর কাছ থেকে ৩০ হাজার এবং ২০১৬ সালের নির্বাচনে ৬ প্রার্থীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এখনো ওই টাকাগুলোর কোন হদিস মিলেনি। বছর তিনেক আগে বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় রোপিত রেইন ট্রি গাছ নিলামে দুই লাখ টাকা বিক্রি করা হয়। সেই টাকারও কোন হদিস নেই। ২০০১ সালে বিদ্যালয়ের পাশেই মসজিদ নির্মাণের জন্য কিছু ভ’মি বরাদ্দ দেওয়া হয়। মসজিদ নির্মাণের জন্য দেশে বিদেশে টাকা উত্তোলন করা হয়। ৪০ জন দাতা সদস্যের মধ্যে তিনজন দাতা সদস্যের নাম রয়েছে সেখানে নতুন করে ২০ জনকে দাতা-সদস্য করার জন্য নাম প্রস্তাব করে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। অথচ এখনো সেই টাকা বিদ্যালয়ের একাউন্টে জমা হয়নি।
প্রধান শিক্ষকের অদক্ষতার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মামলার আসামী হতে হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, অনেক শিক্ষার্থী মামলার আসামি হয়ে লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে দিয়েছে।
অনেকেই পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নিয়ে প্রধান শিক্ষক জালিয়াতির আশ্রয় নেন। বোর্ডে রেজুলেশন কপি সংযুক্ত না করে তার মনোনীত প্রার্থীকে সভাপতি বানিয়ে কমিটি অনুমোদন করিয়ে নেন। কমিটির নির্বাচিত দুই সদস্য বোর্ডে গিয়ে বিষয়টি জানতে পেরে আপত্তি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। প্রধান শিক্ষক ২৩ আগস্টের রেজুলেশনসহ বোর্ডে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়। বোর্ডে প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ধরা পড়লে তিনি ক্ষমা চেয়ে লিখিত মুচলেকা দিয়ে সভাপতি মনোনয়নের জন্য প্রবিধানমালা ২০০৯ এর ৫ (৩) ধারা অনুযায়ী আগের কমিটি বাতিল করার জন্য আবেদন জানান। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক তার আবেদনে সভাপতি মনোনয়ন সংক্রান্ত ‘স্মারক নং সিশিবো/ক:শা:/গভ:বডি/২০১৬/৩৪৮ পত্র বাতিল করার আবেদন জানান। তার আবেদনে বোর্ড কর্তৃপক্ষ আগের দেওয়া কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে। অথচ কমিটি গঠনের পূর্বে যুক্তরাজ্যে ছিলেন মুহিবুর রহমান।
পরে গত বছরের ৪ অক্টোবর বিদ্যালয়ের কমিটি নিয়ে দুটি পক্ষ তৈরি হলে বিরোধ মীমাংসার জন্য এগিয়ে আসেন উত্তর বাদেপাশা ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ। তার সভাপতিত্বে বৈঠকে রেজুলেশন অনুযায়ী সিরাজ উদ্দিনকে সভাপতি করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। এরপর বোর্ড কর্তৃপক্ষ ২৩ আগস্ট এবং ৪ অক্টোবরের রেজুলেশন অনুযায়ী সিরাজ উদ্দিনকে সভাপতি করে কমিটি অনুমোদন দিলে সেটি আজো বাস্তবায়ন করেননি প্রধান শিক্ষক।
বিদ্যালয়ের কাজ তিনি ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন ছাড়াই করিয়ে ভুয়া ভাউচার বানিয়ে টাকা আদায় করে নেন।
প্রধান প্রধান শিক্ষক হিসাবে যোগ দেওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি শূন্যের কোঠায় এসে নেমেছে দাবি করে বক্তব্যে বলা হয়, লেখাপড়ার মান অনেকটা নীচে নেমে গেছে। ২০১৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল ৮৭ জন। তার অদক্ষতার কারণে পাশ করে মাত্র ১৭ জন। একইভাবে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর থেকেই এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল করছে শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আলীম উদ্দিন বাবলু, জুনেদ আহমদ, সোহেল আহমদ, আব্দুল মালিক হারুন, আবুল কাসেম, আব্দুল লতিব আবুল, আব্দুল করিম, রাজিব আহমদ, কাওসার আহমদ, সাইফুর রহমান জাবেদ, ছমির উদ্দিন প্রমুখ।