Sylhet Today 24 PRINT

বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি |  ২১ মার্চ, ২০১৭

নতুন কোন আইনি জটিলতার সৃষ্টি না হলে ২৫ এপ্রিল বিয়ানীবাজার পৌরসভার বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে এ সংক্রান্ত তফসিল ঘোষণা করে স্থানীয় নির্বাচন অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রেরণ করেছে। নির্বাচন কমিশনের উপ-সহকারী কমিশনার ফরহাদ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থী ও ভোটাররা।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ মো. কামাল হোসেন জানান, আগামী ২৫ এপ্রিল বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ২৭ মার্চ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, ২৯ মার্চ বাছাই ও ৫ এপ্রিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী অফিস চলাকালীন সময়ে স্থানীয় নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা যাবে। নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনির হোসেন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ মো. কামাল হোসেন।

বিয়ানীবাজার পৌরসভার বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন আয়োজনে আইনি সকল বাধা দূর হওয়ায় স্থানীয় ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগের এক যুগান্তকারী রায়ে পৌরবাসীর ১৬ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়।

জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে বিয়ানীবাজার সদর ইউনিয়ন এবং আরও কিছু এলাকা নিয়ে পৌরসভা গঠন করা হয়। পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য পৌর প্রশাসক পদে নিয়োগ পেতে একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা তদবির শুরু করেন। আওয়ামীলীগ নেতাদের মধ্যে শুরু হয় স্নায়ুযুদ্ধ। অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ঝুঁকি এড়াতে সে সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে উপেক্ষা করে সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশাসক পদে নিয়োগ দেয়া এবং নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার আগে অন্য ব্যক্তিকে পৌর কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন সদর ইউনিয়নের তখনকার চেয়ারম্যান মো. তফজ্জুল হোসেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তাকে পৌর প্রশাসক পদে নিয়োগ দেন।

পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তফজ্জুল হোসেন। কিন্তু রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে তাকে পৌরসভার কার্যক্রম চালাতে বেশ বেগ পেতে হয়। পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে মিটার ভাড়া নিয়ে আন্দোলনের সময় কারাবরণ করেন তফজ্জুল হোসেন। তখন বিয়ানীবাজার থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সহস্রাধিক স্মারকলিপি গিয়ে জমা পড়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় মন্ত্রণালয় এই পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকে। এক সময় পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পৌরবাসীদের কিছু অংশ তৎপর হয়ে উঠে। যে কোন সময় নির্বাচন হতে পারে এই আশংকা ভর করে বসে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। পৌরসভায় অন্তর্ভুক্তি এবং পৌরসভা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য সীমানা সংক্রান্ত একাধিক রিট আবেদন জমা পড়ে হাইকোর্টে।

এদিকে সরকার সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সংসদে একটি বিল পাশ করে। এর ফলে বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠানে সকল শংকা দূর হয়। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও আটগাঁট বেঁধে মাঠে নামেন। সর্বশেষ বিয়ানীবাজার পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী সেন্টার নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। নবাং এলাকাবাসী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কসবা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানান্তর হওয়া সেন্টার পরিবর্তনের জন্য আবেদন করে। নয়াগ্রাম এলাকাবাসীও সেন্টার স্থানান্তর হওয়ার প্রেক্ষিতে পৃথক আরেকটি আবেদন দাখিল করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্বাচনী সেন্টার পূর্বেকার অবস্থায় ফিরিয়ে না নিলে এ দু’ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের পক্ষে উচ্চ আদালতে পৃথক রিট আবেদন দাখিল করা হয়।

এখানকার নির্বাচন নিয়ে কথা হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (পৌর) মাহমুদুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, সংসদে পাশ হওয়া বিল এবং মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগে সর্বশেষ রায় পর্যালোচনা করে বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.