নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩ মে, ২০১৫
কুমারপাড়ার নির্মাণাধীন সিলেট সিটি করপোরেশনের স্টাফ কোয়ার্টার একটি ভূমিখেকোচক্র দখলের পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকালে এই চক্রের সদস্যরা হুমকি দিয়ে নির্মাণাধীন স্টাফ কোয়ার্টারের কাজ বন্ধ করে দেয় বলে সিসিক সূত্রে জানা গেছে। হুমকির পর থেকে কাজ বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
কৌশল হিসাবে জমি দখলের আগে নেপথ্যে থাকা ভূমিখেকোচক্রের সদস্যরা এলাকার কিছু সুবিধাবাদি লোকদের কাজে লাগিয়ে রোববার সাজানো মানববন্ধনও করে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে ও সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, নগরীর কুমারপাড়া এলাকায় সিটি করপোরেশনের ৯১ নং মৌজায় ৮৫৩১ দাগে ১০ শতক ভূমি রয়েছে। প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা মূল্যের ওই ভূমিতে দীর্ঘদিন ধরে সিটি করপোরেশনের স্টাফরা বাস করে আসছেন। সম্প্রতি করপোরেশনের সম্মতিতে সেখানে স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টেন্ডার আহবান করা হয়। টেন্ডার শেষে ভূমির উপর কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
রোববার আকষ্মিকভাবে ওই ভূমির দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকদের উপর চাপ দেয় স্থানীয় একটি চক্র। একপর্যায়ে কাজ বন্ধ করে তাদেরকে চলে যাওয়ার হুমকি দেয় তারা। ভয়ে লোকজন চলে যায়।
সংবাদ পেয়ে সিটি করপোরেশনের উর্ধতন কর্মকর্তারা সেখানে ছুটে যান। বিশৃঙ্খলা থামাতে তারাো কাজ বন্ধ করে চলে যান। এ সময় এলাকার সুবিধাভোগী লোকদের কৌশলে ব্যবহার করে একটি সাজানো মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে ভূমিখেঁকো চক্রের সদস্যরা।
এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামূল হাবীব জানান, এ ভূমিটি সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্টাফ কোয়ার্টার। আকষ্মিকভাবে একটি চক্র ভূমি দখলের পায়তারা শুরু করেছে। তারা সেখানে গন্ডগোল পাকিয়ে ভূমির কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা আইনী প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছি।
এ ব্যাপারে সিসিক’র প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, এ ভূমিটি সিটি করপোরেশনের। আমরা যখন কার্যাদেশ দেই তখনো কেউ বাঁধা দেয়নি। এখন মজনু মিয়া নামে এক ব্যক্তি ওই ভূমিটি তার বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন আমরা আমাদের আইনী প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছি, সিটির একখন্ড ভূমিও কারো হাতে এমনিতে তুলে দেওয়া হবেনা।
এ ব্যাপারে ভূমির মালিক দাবিদার নগরীর সওদাগরটুলা এলাকার বাসিন্দা আলী হায়দর মজনু বলেন, এটি আমাদের ভূমি। ৫৬ সালের রেকর্ডেও আমরা মালিক। আমাদের ভূমিতে আমরা আছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুমারপাড়া এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, তার জানামতে এ ভূমির মালিক সিটি করপোরেশন। আকষ্মিকভাবে মালিকানা দাবি এটি দখলের উদ্দেশ্যে হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।