Sylhet Today 24 PRINT

সিলেটের পাঁচ বিশিষ্টজনকে সম্মাননা দিলো নাট্য পরিষদ

পাঁচ দিনব্যাপী নাট্য উৎসব শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২১ মার্চ, ২০১৭

কবি আবদুল গাফফার চৌধুরীর কবিতা থেকে অনুসৃত “জাগো মানুষের সুপ্ত শক্তি, হাটে মাঠে ঘাটে বাটে” স্লোগানে উজ্জ্বীবিত হয়ে ও মহান একুশের আলোকে প্রতিবছরের মতো এবারও নাট্য প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে সম্মিলিতনাট্য পরিষদ সিলেট।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে এ নাট্য প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন নাট্যজন সারা যাকের। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবুল মুহিত। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বোলনের মাধ্যমে এ উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।

নাট্য প্রদর্শনীর উদ্বোধনী আয়োজনে নাট্য পরিষদ সংবর্ধিত করে চলতি বছর রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদকপ্রাপ্ত সিলেটের গুণী ব্যক্তিত্ব লোকসঙ্গীতশিল্পী সুষমা দাস, শিক্ষা ও প্রযুক্তিবিদ জামিলুর রেজা চৌধুরী ওভাস্কর্য শিল্পী সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ’কে। এছাড়াও এ বছর সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সম্মাননা পেয়েছেন সিলেটের নাট্যজন নিজামউদ্দিন লস্কর ও বাউল আব্দুর রহমান।

নাট্য প্রদর্শনীতে২১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ প্রতিদিন সন্ধ্যায় একটি করে মোট পাঁচটি নাটকের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। ২৭ মার্চ বিশ্ব নাট্য দিবস উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করেছে নাট্য পরিষদ। এছাড়াও অডিটোরিয়াম চত্ত্বরে বিশ্ব নাট্যজনদের তথ্য প্রদর্শনী, সিলেটের বিভিন্ন নাট্যদলের প্রদর্শিত নাটকের স্থিরচিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী সন্ধ্যা ৭টায় কবি নজরুল অডিটোরিয়ামের মূল মঞ্চে প্রদর্শিত হয় নাট্যনিকেতন সিলেটের ৯ম প্রযোজনা নাটক ‘ভূমিকন্যা’। চম্পক সরকারের রচনা ও নির্দেশনার নাটকটির গল্প আবর্তিত হয়েছে এ মাটির এক নারীর জীবন সংগ্রামকে কেন্দ্র করে।

উদ্বোধনী দিন সন্ধ্যায় কবি নজরুল অডিটোরিয়ামের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বাংলা নাটকের ইতিহাস সুদীর্ঘ। যদিও স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশে বড় পরিসরে নাট্যচর্চা হয়নি, তবে স্বাধীনতার পরে বাংলা নাটকের চর্চা অনেক বিস্তৃতি লাভ করে। আর তারই প্রতিফলন সিলেটে সম্মিলিত নাট্য পরিষদের নাট্য প্রদর্শনীর আয়োজন।

তিনি আরো বলেন,সাময়িক কিছু বিরতি ছাড়াও সম্মিলিতনাট্য পরিষদ ৩৪ বছর ধরে সিলেটের নাট্য আন্দোলনকে সম্মুজ্জ্বল করে রেখেছে, আর এ উৎসব আয়োজন যাকে কখনোই বন্ধ না হয়, তারজন্য সব ধরণের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

এ সময় উদ্বোধকের বক্তব্যে একুশে পদক প্রাপ্ত নাট্যজন সারা যাকের বলেন, বাংলা নাটকের সুদীর্ঘ ইতিহাসের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রতিটি নাটকের দল ও সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে।
এ বছর একুশে পদক প্রাপ্তিতে তাঁর দায়িত্ব আরো বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নাটকে অবদানের জন্য একুশে পদক প্রাপ্তি নাটকের জন্য কাজ করে যাওয়ার দায়বোধ আরো অনেকটুকু বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের এ আয়োজনকে অভিনন্দন জানান।

সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমদ চৌধুরী মিশু’র সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত।

এ সময় নাট্য পরিষদের পক্ষ থেকে পরিষদের প্রধান পরিচালক অরিন্দম দত্ত চন্দনকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাট্য পরিষদের পরিচালক চম্পক সরকার ও কনোজচক্রবর্তী বুলবুল। সংবর্ধিত ও সম্মাননা প্রাপ্ত বিশিষ্ট জনদের বরণ করে নিয়ে তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন শামসুলবাসিত শেরো, নীলাঞ্জন দাশ টুকু, ইন্দ্রানী সেন শম্পা, সুপ্রিয় দেব শান্ত ও অচিন্ত্য কুমার দেব অমিত।

বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় নাট্যালোক সিলেট এর প্রযোজনায় বাকার বকুল রচিত ও খোয়াজ রহিম সবুজ নির্দেশিত নাটক ‘মুল্লুক’ প্রদর্শিত হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.