নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৪ মার্চ, ২০১৭
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার 'আতিয়া মহল' এ অবস্থানকারী জঙ্গিদেরকে আত্মসমর্পণের আহ্বানের প্রেক্ষিতে সাড়া দিয়েছে ভেতরে থাকা জঙ্গিরা।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া শুক্রবার দুপুরে হ্যান্ডমাইকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালে ভেতর থেকে পুরুষকণ্ঠে প্রত্যুত্তর আসে, তোমরা শয়তানের দল, আমরা আল্লাহর রাস্তায় আছি।
বেলা সোয়া ১টার দিকে ওই পুরুষকণ্ঠ দুবার উচ্চস্বরে বলে, ফোর্স পাঠান।
জঙ্গিদের উদ্দেশ করে হ্যান্ড মাইকে পুলিশ বলে, ‘আপনাদের চারদিক দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করুন।’
আত্মসমর্পণের এই আহ্বানের পর পুলিশ তাদের কৌশলের অংশ হিসেবে ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
বেলা পৌনে দুইটার দিকে সন্দেহভাজন এক নারী জঙ্গি উচ্চ কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা আল্লাহর পথে আছি। তাড়াতাড়ি সোয়াট পাঠান। দেরি করছেন কেন? আমাদের সময় কম।’
সন্দেহভাজন এক নারী জঙ্গির নাম উল্লেখ করে পুলিশকে বলতে শোনা যায়, ‘মর্জিনা বেগম, আপনি শুনতে পাচ্ছেন? আপনারা বেরিয়ে আসুন। আত্মসমর্পণ করুন। আপনাদের কোনো সমস্যা হবে না।’
সন্দেহভাজন জঙ্গিদের উদ্দেশ করে হ্যান্ডমাইকে একটি ফোন নম্বরও বলে পুলিশ। এই নম্বরে ফোন দিয়ে তাদের আত্মসমর্পণের আগ্রহ প্রকাশ করতে বলা হয়।
এর আগে শুক্রবার ভোর থেকেই 'আতিয়া মহল' নামের পাঁচতলা বাড়িটি কর্ডন করে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে থেমে গুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে কর্ডন করা এলাকায়।
ঢাকা থেকে সোয়াট বাহিনী সিলেট পৌঁছালেই জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানান মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া।
চট্টগ্রাম ও ঢাকায় সাম্প্রতিক জঙ্গিবিরোধী অভিযানের পর আটক জঙ্গিদের দেয়া তথ্যেই ৫তলা বিশিষ্ট আতিয়া মহল শুক্রবার ভোরে ঘেরাও করে পুলিশ। ওই বাড়িতে আস্তানা গেড়েছে নব্য জেএমবির জঙ্গিরা বলে ধারণা পুলিশের। বৃহস্পতিবার রাতেই এই অভিযানের লক্ষ্যে সিলেট আসে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একটি দল। অভিযান শুরুর আগে ওই বাড়ির মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পার্শ্ববর্তী তিনতলা ভবন থেকে লোকজন সরিয়ে নেয়া হয়।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার পাঠানপাড়া সড়কের পাশে অবস্থিত পাঁচতলা ও চার তলা বিশিষ্ট দুটি ভবনের নাম আতিয়া মহল। সিলেট নগরীর আতিয়া ট্রেভেলস্ এর স্বত্বাধিকারী দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির বান্দরঘাট (বন্দরঘাট)’র বাসিন্দা উস্তার মিয়া।
গত জানুয়ারি মাসে প্রাণ কোম্পানির অডিট অফিসার পরিচয়ে কাওসার আহমদ ও মর্জিনা বেগম ওই বাড়ি ভাড়া নেন।