নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৫ মার্চ, ২০১৭
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় ‘জঙ্গি আস্তানা’ আতিয়া মহল থেকে শনিবার দুপুর ২ টার দিকে ২ জন নারী, ২ জন পুরুষ ও ১ শিশুকে বের করে নিয়ে আসার সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এর পরপরই চূড়ান্ত অভিযান শুরু হয়।
চূড়ান্ত অভিযানে মুহুর্মুহু গুলির শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে শিববাড়ি। পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। শিবুল কর (৩৫) নামে ওই এলাকার স্থানীয় এক বাসিন্দা গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ শিবুলকে স্বজনরা ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। এতে করে আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিযানের শুরুর আগে র্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকসহ উৎসুক জনতাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
আজ (শনিবার) সকাল ৮টার দিকে সেনা কমান্ডোরা সেখানকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে 'টোয়াইলাইট' (গোধূলি) নামের ওই অভিযান শুরু করেন। সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের লে. কর্ণেল ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে এ অভিযান শুরু হয়।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার পাঠানপাড়া সড়কের পাশে অবস্থিত পাঁচতলা ও চারতলাবিশিষ্ট দুটি ভবনের নাম আতিয়া মহল। সিলেট নগরীর আতিয়া ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির বান্দরঘাটের (বন্দরঘাট) বাসিন্দা উস্তার মিয়া।
এই বাড়িতে জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছে এমন সন্দেহে বৃহস্পতিবার রাত ২ টা থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ। শুক্রবার দিনভর পুলিশ, সোয়াট ও সেনাসদস্যরা বাড়িটিকে ঘিরে রাখে। এসময় হ্যান্ড মাইকে করে বারবার সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আত্মসমর্পনের আহ্বান জানানো হয়। তবে এতে সাড়া মিলেনি। অবশেষে বাড়িটি ঘিরে রাখার প্রায় ত্রিশ ঘন্টা পর চুড়ান্ত অভিযানে নামে সেনা সদস্যরা।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথমে আতিয়া মহলের অন্য ফ্ল্যাটগুলোতে আটকে পড়াদের উদ্ধার করা হবে। পরে জঙ্গিদের ভবনের বাইরে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে।
ভবন মালিক উস্তার মিয়া জানিয়েছেন, পাঁচতলা ভবনটিতে ৩০টি ফ্ল্যাটে মোট ২৮টি পরিবার ভাড়া থাকেন।
এই ভবনের নিচ তলার একটি ফ্ল্যাট গত জানুয়ারি মাসে প্রাণ কোম্পানির অডিট অফিসার পরিচয়ে কাওসার আহমদ ও মর্জিনা বেগম দম্পত্তি।