Sylhet Today 24 PRINT

বিয়ানীবাজার পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের শুক্কুর, বিএনপির পিন্টু

শিপার আহমেদ, বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি  |  ২৫ মার্চ, ২০১৭

আগামী ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের আব্দুশ শুক্কুর ও বিএনপি’র মনোনয়ন পেয়েছেন আবু নাছের পিন্টু।

শনিবার (২৫ মার্চ) এই দু'জন তাদের নিজ নিজ দল থেকে মনোনীত হন।

মনোনয়ন পাওয়ার পর চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন উভয় দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। তাদের নিয়ে তারা চালাচ্ছেন জোর প্রচার-প্রচারণাও।

পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুশ শুক্কুর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও ব্যক্তি হিসেবে সব দলের কাছেই রয়েছে তার আলাদা ইমেজ। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছেও তিনি সমাদৃত নেতা। শনিবার দুপুরে প্রধান মন্ত্রী সাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয়।

মনোনয়ন পেয়ে শুক্কুর বলেন, জাতির জনকের আদর্শে একজন কর্মী হিসাবে পৌরবাসীর সেবা করতে চাই। আজীবন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কর্মী ছিলাম। এলাকাবাসীর সকলের সহযোগিতায় সেবার করার সুযোগ পাব বলে আমার বিশ্বাস।

তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে কোন কালো শক্তি কিছু করতে পারবে না। একটি অশুভ শক্তি আমাদের ঐক্যে ভাঙ্গন ধরাতে ব্যস্ত। নৌকা স্বাধীনতার প্রতীক, বিজয়ের প্রতীক। এটা শুধু আমার প্রতীক নয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতীক। আমরা সবাই মিলে স্বাধীনতার প্রতীক নৌকার অর্জিত সম্মান বজায় রাখবো।

এদিকে, বিএনপি’র একক প্রার্থী আবু নাসের পিন্টুকে মনোনীত করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। তিনি পৌর বিএনপি’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দীর্ঘদিন থেকে পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য কৌশলী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। যার ফলে ইতোমধ্যে তিনিও চলে এসেছেন আলোচনায়। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি লড়বেন মেয়র পদে। শনিবার সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে মনোনীত করা হয়।

আবু নাছের পিন্টু বলেন, আমরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছি। যদি কোনও ধরনের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ না হয়, তাহলে ধানের শীষ বিপুল ভোটে জিতবে। এতে সন্দেহের কোনও অবকাশ নাই। আমি একটি মাস্টারপ্লান করে কাজ করবো। বিয়ানীবাজার পৌরসভায় অনেক সমস্যা যা বিগত দিনে দূর হয়নি। আমি মেয়র হলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেব।

জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে বিয়ানীবাজার সদর ইউনিয়ন এবং আরও কিছু এলাকা নিয়ে পৌরসভা গঠন করা হয়। পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য পৌর প্রশাসক পদে নিয়োগ পেতে একাধিক আওয়ামীলীগ নেতা তদবির শুরু করেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে শুরু হয় স্নায়ুযুদ্ধ। অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ঝুঁকি এড়াতে সে সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে উপেক্ষা করে সরকারী কর্মকর্তাকে প্রশাসক পদে নিয়োগ দেয়া এবং নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার আগে অন্য ব্যক্তিকে পৌর কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রীট আবেদন করেন সদর ইউনিয়নের তখনকার চেয়ারম্যান মোঃ তফজ্জুল হোসেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তাকে পৌর প্রশাসক পদে নিয়োগ দেন। পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন তফজ্জুল হোসেন। কিন্তু রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে তাকে পৌরসভার কার্যক্রম চালাতে বেশ বেগ পেতে হয়। পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে মিটার ভাড়া নিয়ে আন্দোলনের সময় কারাবরণ করেন তফজ্জুল হোসেন। তখন বিয়ানীবাজার থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সহস্রাধিক স্মারকলিপি গিয়ে জমা পড়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় মন্ত্রণালয় এই পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকে। এক সময় পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পৌরবাসীদের কিছু অংশ তৎপর হয়ে উঠে। যে কোন সময় নির্বাচন হতে পারে এই আশংকা ভর করে বসে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। পৌরসভায় অন্তর্ভুক্তি এবং পৌরসভা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য সীমানা সংক্রান্ত একাধিক রীট আবেদন জমা পড়ে হাইকোর্টে।

এদিকে সরকার সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সংসদে একটি বিল পাশ করে। এর ফলে বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠানে সকল শঙ্কা দূর হয়। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও আটগাঁট বেঁধে মাঠে নামেন। সর্বশেষ বিয়ানীবাজার পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের নির্বাচনী সেন্টার নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। নবাং এলাকাবাসী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কসবা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানান্তর হওয়া সেন্টার পরিবর্তনের জন্য আবেদন করে। নয়াগ্রাম এলাকাবাসীও সেন্টার স্থানান্তর হওয়ার প্রেক্ষিতে পৃথক আরেকটি আবেদন দাখিল করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্বাচনী সেন্টার পূর্বেকার অবস্থায় ফিরিয়ে না নিলে এ দু’ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের পক্ষে উচ্চ আদালতে পৃথক রীট আবেদন দাখিল করা হয়। এখানকার নির্বাচন নিয়ে কথা হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (পৌর) মাহমুদুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, সংসদে পাশ হওয়া বিল এবং মাননীয় সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগে সর্বশেষ রায় পর্যালোচনা করে বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.