মারূফ অমিত | ২৬ মার্চ, ২০১৭
কাইয়ার গুদাম, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত এই গুদামে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প ও টর্চার সেল ছিল। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ৪৫ বছর পরও পাকিস্তানী জল্লাদখানা খ্যাত এই গুদাম গণকবরের স্বীকৃতি পায়নি, হয়নি কোন স্মৃতিস্তম্ব নির্মাণ।
স্থানীয়রা জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ফেঞ্চুগঞ্জ, ভাটেরা এবং এর আশেপাশের এলাকা থেকে বাঙ্গালীদের ধরে এনে এখানে নির্মম নির্যাতন করা হত। অসংখ্য বাঙ্গালী নারীকে এই গুদামে এনে পাশবিক নির্যাতন করা হত। বিভিন্ন এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে এই গুদামের পাশে গুলি করে হত্যা করে পাশেই বয়ে চলা কুশিয়ারা নদীতে লাশ ফেলে দেওয়া হতো।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান,উপজেলার পশ্চিম বাজারের ছত্রিশ মৌজায় ২২ শতক জমির ওপর পাকিস্তান আমলে খোকা চান ভাটিয়ারির ছেলে মানিক চান ভাটিয়ারি মালিকানাধীন ছিল এই গুদাম। যা কাইয়ার গুদাম নামে পরিচিত ছিল। কাইয়া নামের এক মাড়োয়ারি ব্যবসায়ীর নামানুসারে এটির নাম হয় কাইয়ার গুদাম।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই গুদামের সম্মুখভাগ ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গুদামের পেছনের অংশ খুবই জরাজীর্ন।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আকরাম হোসেন এ ব্যাপারে বলেন, ১১ ডিসেম্বর ফেঞ্চুগঞ্জ হানাদার মুক্ত হবার পর তিনি কাইয়ার গুদামে শুধু রক্তের ছাপ আর মানুষের পড়ে থাকা কাপড় দেখেছেন। অসংখ্য বাঙ্গালী নারীকে এখানে পাকিস্তানিরা টর্চার করেছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় প্রবীণ সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন ইসকা জানান, নির্মম স্মৃতি বিজড়িত এই জায়গা পাকিস্তানীদের টর্চার সেল ছিল। অসংখ্য বাঙ্গালীকে এখানে হত্যা করে লাশ কুশিয়ারা নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। এই গুদামকে গণকবরের স্বীকৃতি দেয়ার দাবী জানাচ্ছি।
তিনি আরো জানান, এই গুদামটি বেশ কিছু দিন থেকে ময়নুল হোসেন জাহাঙ্গীর নামক একজনের দখলে রয়েছে। যার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রয়েছে যা প্রক্রিয়াধীন।
ফেঞ্চুগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ নায়েক রশিদ আলী বীর প্রতীকের ভ্রাতুষ্পুত্র ছায়েদুল ইসলাম খালেদ এ ব্যাপারে সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোরকে জানান, কাইয়ার গুদামকে গণকবরের স্বীকৃতি এবং গুদামের পাশে স্মৃতিস্তম্ব নির্মাণের দাবীতে আমি নিজ তত্ত্বাবধানে নির্যাতিত ও শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর গ্রহণ শুরু করেছি।
তিনি আরো জানান, আমার সাথে সক্রিয়ভাবে স্বাক্ষর গ্রহণে কাজ করছেন আওয়ামীলীগ নেত্রী রাহেলা শেখ , বেতার বাংলার জনপ্রিয় উপস্থাপক ও জাদুশিল্পী মানিকুর রহমান গনি,তরুণ সংগঠক শামীম আহমদ ও আদনান চৌধুরী আহাদ।
এ ব্যাপারে কাইয়ার গুদামে নির্মম নির্যাতনে শহীদ নুরুল ইসলাম পংকি মিয়ার লন্ডন প্রবাসী ভাতুস্পুত্র আবু হানিফ সিলেটটুডে টুয়েন্টিফোরকে বলেন 'আমাদের পূর্ব পুরুষদের দেশের জন্য আত্মত্যাগ এর স্বীকৃতি চাই। তাদের রক্তের বিনিময়ে এই বাংলাদেশ এবং আমি মনে করি দ্রুত এই গুদামকে সরকারী ভাবে গণকবরের স্বীকৃতি দেয়া হোক।
এ ব্যাপারে মোশাহিদ আলীর (জড়া মাস্টার) ছেলে জামাল হোসেন বলেন , " এই গুদামকে গণকবরের স্বীকৃতি দেয়া আমাদের প্রাণের দাবি। সরকার সত্যিকার অর্থে যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করেন তবেই তারা দাবি মেনে নিবেন ৷