নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৭ মার্চ, ২০১৭
জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বৃহস্পতিবার সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার আতিয়া মহল পুলিশ ঘিরে রাখার পর থেকেই আলোচিত হচ্ছিল একটি নাম- মর্জিনা। এই বাড়ির নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে মর্জিনা নামের এক নারী জঙ্গিসহ আরো কয়েকজন জঙ্গি রয়েছেন এমন সংবাদেই পুলিশ পাঁচতলা ওই বাড়িটি ঘিরে রাখে।
শুক্রবার দিনভর পুলিশ হ্যান্ড-মাইকে ফ্ল্যাটের ভেতরে থাকাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায়। এসময় জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার হোসেনকে মর্জিনার নাম ধরে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাতে শোনা যায়।
শুক্রবার দুপুরের দিকে পুলিশের ওই আহ্বানের সময় ফ্ল্যাটের একটি জানালার ফাঁক দিয়ে একজন নারী প্রত্যুত্তর প্রদান করেন বলেও জানান আখতার হোসেন।
সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফিংকালে সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান জানান, আতিয়া মহলে চারজন জঙ্গি নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারীর মরদেহ ভবন থেকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতদের পরিচয় জানা গেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিচয় এখনো জানা যায়নি। পুলিশ পরে তদন্ত করে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করবে।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা বলেন, বিভিন্ন অসমর্থিত সূত্রের দেওয়া তথ্য মতে আমরা ধারণা করছি উদ্ধার হওয়া লাশ দুটি জঙ্গি কাওছার ও মর্জিনার হতে পারে। তবে এ ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়না তদন্ত শেষে জানা যেতে পারে।
উদ্ধারকৃত দুটি মরদেহই ওসমানী হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এই দুটি মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হতে ডিএনএ-এর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপ পরিচালক ডা. দেবপদ রায় দেবু বলেছেন, আমরা মরদেহগুলো সন্ধ্যার পরে পেয়েছি। এখনো সুরতহাল রিপোর্ট করা হয়নি। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর মঙ্গলবার তাদের ময়না তদন্ত করা হবে।
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার এই বাড়িটি গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে ঘিরে রাখা হয়েছে। শুক্রবার ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট সিলেটে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থল ঘেরাও করে। এরপর শনিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে অভিযান শুরু করে।
এ অভিযানের মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় দুই দফা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত এবং আরও ৪৪ জন আহত হন। স্মরণকালের মধ্যে এটা সবচেয়ে দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী জঙ্গিবিরোধী অভিযান। রোববার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ওই ভবনের নিচতলায় দুজন মারা গেছে।