নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৮ মার্চ, ২০১৭
সিলেটের শিববাড়ির আতিয়া মহলে সেনা কমান্ডো অভিযানে নিহত নিহত চার জঙ্গির মধ্যে দু'জনের ময়না তদন্ত শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এক নারী ও এক পুরুষ জঙ্গির ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়।
ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শামসুল ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের চিকিৎসক দল ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেন।
এই দু'জন কাওসার আহমদ ও মর্জিনা বেগম হতে পারে বলে ধারণা পুলিশের। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হতে আঙ্গুলের ছাপ ও ডিএনএ'র নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান কতোয়ালি থানার ওসি সুহেল আহমদ।
এদিকে, আতিয়া মহলের ভেতরে থাকা অপর দুই জঙ্গির লাশ এখনো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি বলে জানান মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা।
বেলা ৩ টায় তিনি বলেন, লাশ দুটি ভবন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো নিয়ে আসতে পুলিশের একটি টিম ভেতরে গিয়েছে। তবে এখনো হস্তান্তর করা হয়নি। লাশ হস্তান্তর করা হলেই ওসমানী হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হবে বলে জানান তিনি।
পুলিশ জানায়, লাশগুলো ময়না তদন্ত শেষে এই হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হবে। পরিচয় নিশ্চিত হলে সেগুলো হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় জঙ্গি আস্তানা থেকে দুটি লাশ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে হিমাগারে রাখা হয়।
উল্লেখ্য, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় অবস্থিত আতিয়া মহল বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে ঘিরে রেখেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। শুক্রবার ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট সিলেটে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থল ঘেরাও করে।
এরপর শনিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে অভিযান শুরু করে। এ অভিযানের মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটে পুলিশ চেকপোস্টে দুই দফা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জন নিহত এবং ৪৪ জন আহত হন।
সোমবার তৃতীয় দফা সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী জানায়, অভিযানে এ পর্যন্ত চার জঙ্গি নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আছে তিন পুরুষ ও এক নারী।