Sylhet Today 24 PRINT

শহীদ আলতাব আলীর স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিন- স্মরণসভায় বক্তারা

১৯৫৩ সালে ছাতকের মোল্লা আতা গ্রামে জন্ম নেয়া আলী পরিবারের অভাব-অনটন ঘুচাতে ৬৯ সালে আসেন লন্ডনে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে ১৯৭৮ সালের ৪মে লন্ডনে বর্ণবাদী হামলার শিকার হয়ে শহীদ হন ব্রিটেনে বাঙ্গালীর সংগ্রামের এই মহান সারথী।

নিউজ ডেস্ক  |  ০৫ মে, ২০১৫

বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আলতাব আলীর র‍্যালি

যুক্তরাজ্যে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে শহীদ আলতাব আলীর স্মৃতি রক্ষার্থে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সিলেটের স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনেরা।

দীর্ঘ ৩৭ বছর পর শহীদ আলতাব আলীর মৃত্যুবার্ষিকীতে বৈদেশিক গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ‘ওভারসিজ করেসপনডেন্টস এসোসিয়েশন অব সিলেট’- ওকাস এর উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণ সভায় বক্তারা আহবান জানান।

ওকাস-এর সভাপতি সাংবাদিক খালেদ আহমদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মুহাম্মদ তাজ উদ্দিনের পরিচালনায় সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী। প্রধান আলোচক ছিলেন প্রবাসী বিশেষজ্ঞ সাংবাদিক-লেখক গবেষক মুহাম্মদ ফয়জুর রহমান।

স্মরণ বক্তারা বলেন, ১৯৭৮ সালের ৪ মে লন্ডনে বর্ণবাদীদের হামলায় প্রাণ দিয়েছিলেন সিলেটের ছাতক উপজেলার মোল্লাআতা গ্রামের অধিবাসী, প্রবাসী আলতাব আলী। তিনি জীবন দিয়ে বৃটেনে বর্ণবাদীদের হাত থেকে প্রবাসীদের বিশেষ করে সিলেটী প্রবাসীদের নিরাপদ থাকার পথ দেখিয়ে গেছেন। যদিও এখনো বর্ণবাদীদের অপতৎপরতা আজো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

শহীদ আলতাব আলীর নামে লন্ডনে একটি পার্কের নামকরণ করা হলেও সিলেটে কিংবা তার জন্মভুমি ছাতকে তার স্মৃতি রক্ষার্থে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। নতুন প্রজন্ম তার আত্মত্যাগের কথা জানতে পারছেনা।

বক্তারা বলেন, প্রতি বছর বৃটেনে বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে শহীদ আলতাব আলীকে স্মরণ করা হলেও সিলেটে অথবা ছাতকে আজো তাকে স্মরণ করেনি কেউ, যা খুবই বেদনাদায়ক। ইতিহাসের প্রয়োজনে তাকে আমাদের স্মরণ করতে হবে।

বক্তারা শহীদ আলতাব আলীর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং প্রথমবারের মতো সিলেটে শহীদ আলতাব আলীর স্মরণ সভা আয়োজন করান জন্য ওকাসকে ধন্যবাদ জানান।

সিলেট প্রেসক্লাবের আমিনুর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে ওকাস’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মুহাম্মদ তাজ উদ্দিনের পরিচালনায় স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন- শহীদ আলতাব আলীর আপন ছোট ভাই মো. আব্বাস আলী, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, চ্যানেল এস-এর বিশেষ প্রতিনিধি আব্দুল মালিক জাকা, সময় টিভির ব্যুরো প্রধান ইকরামুল কবির, দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, ওকাস-এর সহ সভাপতি আব্দুর রশিদ রেনু, চ্যানেল-এস সিলেট অফিসের চীফ রিপোর্টার মো. মঈন উদ্দিন মনজু, দৈনিক কাজিরবাজারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ সুজাত আলী, শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার আবু বকর সিদ্দিক।

অনান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- এনটিভির সিলেট প্রতিনিধি মারুফ আহমেদ, এনটিভির স্টাফ ক্যামেরাম্যান আনিস রহমান, চ্যানেল এস-এর স্টাফ ক্যামেরাম্যান আলাউদ্দিন হেলাল, এশিয়ান টিভির ক্যামেরাম্যান জয়নাল আবেদীন, দৈনিক সিলেট বাণীর স্টাফ ফটোগ্রাফার শাহ মো. তানভীর, শহীদ আলতাব আলীর ভাতিজা মো. তাওহীদ আহমদ, আকতার হোসন, মো. পাবেল আহমদ, মো. মিজানুর রহমান ময়না ও জুয়েল রানা।

উল্লেখ্য, ব্রিটেনে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের বীর শহীদ আলতাব আলীর নামে নামকরণ করা হয় আলতাব আলী পার্কের। ৩৭ বছর পেরিয়ে গেলেও কেউ খোজঁ রাখেননি আলতাব আলীর পরিবারের। 

আলতাব আলী বিয়ের ছয় মাস পরেই লন্ডনে যান। বাড়িতে পাকা ঘর তুলবারও প্রস্তুতি নেন। তবে সব স্বপ্নই রয়ে যায় অপূর্ণ। আলতাব আলী শহীদ হবার পর স্ত্রীর বিয়ে হয় অন্যত্র। এই শহীদের বাড়ির ভিটেতে আর ওঠেনি পাকা দালান।

১৯৫৩ সালে ছাতকের মোল্লা আতা গ্রামে জন্ম নেয়া আলী পরিবারের অভাব-অনটন ঘুচাতে ৬৯ সালে আসেন লন্ডনে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে ১৯৭৮ সালের ৪মে লন্ডনে বর্ণবাদী হামলার শিকার হয়ে শহীদ হন ব্রিটেনে বাঙ্গালীর সংগ্রামের এই মহান সারথী।

আলতাব আলী হত্যার প্রতিবাদে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ সেদিন লন্ডনে বিক্ষোভ করেন। আলতাব আলীর রক্তের দামে ব্রিটেনে পর্যদুস্ত হয় বর্ণবাদ। তবু অপূর্ণ থেকে যায় আলতাব আলীর স্বপ্ন।

এক মাস পরে মরদেহ দেশে নিয়ে পারিবারিক গোরস্থানেই দাফন করা হয় তাঁকে। প্রবাসীদের দাবির প্রেক্ষিতে একসময়ের পুর্ব লন্ডনের সেন্ট মেরী পার্কের নামকরণ করা হয় আলতাব আলী পার্ক।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.