শিপার আহমেদ, বিয়ানীবাজার | ১৭ এপ্রিল, ২০১৭
দীর্ঘ সময় পর আগামী ২৫ এপ্রিল বিয়ানীবাজার পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী আমেজ পৌর শহরের গন্ডি পেরিয়ে পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে-বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচনী গতি-প্রকৃতি, ভূত-ভবিষ্যৎ। ভোটাররা ‘শহর অভিভাবক’ হিসেবে কাকে বেছে নেবেন, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
ভোটারদের কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন আবার কেউ নীরব-নিস্তব্ধ। ভোটের দিন বিকেল পর্যন্ত মেয়র-কাউন্সিলর পদে কারা এগিয়ে থাকবেন কিংবা কাদের মধ্যে লড়াই জমবে, এ নিয়েও নানা কথা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশী সরগরম চায়ের স্টল, পৌর এলাকার হাট-বাজার, বিপণী বিতান আর সুশীল সমাজের আড্ডাস্থল।
বিয়ানীবাজার পৌর এলাকার সাধারণ ভোটাররা তাদের অসাধারণ ভাবনাগুলো ফুটিয়ে তুলছেন নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতায়।
লাসাইতলায় কাউন্সিলর প্রার্থী লোকমান আহমদের চায়ের স্টল। সকাল ৯টার দিকে এখানে ১২-১৪ জন যুবকের পোস্টার সাঁটানোর তোড়জোড়। তারা মেয়র পদে কাকে বেছে নেবে, তা এখনই প্রকাশ করতে চায় না। তাদের যুক্তি, এটা প্রকাশ হলে তাদের প্রার্থীর ভোটে প্রভাব পড়বে। তবে মেয়র হিসেবে তারা সবাই একজনকে বেছে নেবে কিনা জানতে চাইলে সবাই নিরুত্তর। কৌশলে আরেকটি প্রশ্ন করলে মেয়র পদে একজনকে ভোট দিবে বলে হাত ওঠালো ৬ জন।
অন্যরা জানান, আরো পরে তারা সিদ্ধান্ত নিবেন। পাশের স্টল শামছুদ্দিনের। তাঁর এখানেও বেজায় ভিড়। একজন (নাম প্রকাশ না করার শর্তে) জানালেন, ভোটের লড়াই হবে জগ আর নৌকার মধ্যে। পাশে বসা আরেকজন চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলে ওঠলেন, সময় যত যাচ্ছে, ধানের শীষের ভোটও বাড়ছে। তিনি মেয়র পদে কার অবস্থান কত হবে, তাও বলে দিচ্ছেন। এ স্টলে চা পান করতে আসা ইট ভাটা শ্রমিক ফারুক জানালেন, মেয়র পদে বিজয়ী এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোটের ব্যবধান হবে ৮০০-১০০০ হাজারের মধ্যে।
সুপাতলায় স্টেডিয়ামের কাছে দাঁড়িয়ে নির্বাচনী আলাপ করছেন ৩ যুবক। তাদের ভাষ্য, মোবাইল মার্কার প্রার্থী জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। সময় ঘনিয়ে আসলে মেয়র পদে মোবাইল মার্কার বিজয় আটকানো কঠিন হবে। একটু দূরে নিদনপুর জামে মসজিদের কাছে গিয়ে জানতে চাইলাম এখানে অবস্থান কার ভালো? উত্তরে চল্লিশোর্ধ আবু বকর জানালেন, নিদনপুরে দুই প্রার্থীর বাড়ি। এখানে রেলগাড়ির ইঞ্জিন আর মোবাইল ফোন মার্কার প্রভাব বেশী। তবে নৌকা ও জগ পিছিয়ে নয়। তার মতে, মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধিতা হবে জগ ও নৌকার মধ্যে। ‘ইগু ভোটরে ভাই, কে জিতব আর কে আরবো-খওয়া খুব কঠিন। এখন যে অবস্থা, ভোটের মাঠও সবপ্রার্থী ফাইটো’-যোগ করেন তিনি।
কসবা ত্রিমুখী বাজারে ছাদ উদ্দিনের চায়ের স্টল। এখানে নৌকার কথা আলোচিত হচ্ছে বেশী। কাছেই আব্দুল হাছিবের চায়ের স্টলে মেয়র পদ নিয়ে বহুমুখী ভাবনা। স্টলে বসা খোকন (৩৫) বলেন,-‘ভোট খুব দামী জিনিস। কারে দিমু, এখন কইতাম নায়।’ এ স্টলে মেয়র পদে কোন প্রার্থীর কদর বেশী বোঝা যায় নি। এখানে চা পান করছেন দিনাজপুরের মনসুর। তার ভোট ৪নং ওয়ার্ডে। চুপচাপ, কোন কথা নেই তার মুখে। ভোট দিবেন কাকে প্রশ্ন করলে জানালেন, শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থে যে কাজ করবে তাকে ভোট দিব। আমাদের যিনি দাম দেন, তাকেই ভোট দিব। প্রতীক দেখে ভোট দিবেন কিনা এমন প্রশ্ন করলে আর কোন কথা বলতে চাননি।
উপজেলা পয়েন্টে কিসমতের হোটেলে কথা হয় এক অস্থানীয় ভোটারের সাথে। তার সাফ জবাব, জগ মার্কায় ভোট দিব। অপরজনকে জিজ্ঞাস করলে উত্তর আসেনি। তবে জানালেন, আগের জন তাদের কলোনীর মোড়ল।
কথা হয় এক ফেরীওয়ালার সাথে। তিনি গুড়া মসলা ফেরী করে বিক্রি করেন। জানতে চাইলে বললেন, তার ভোট নেই। তবে চাচা-চাচীর ভোট আছে, তারা ভোট দিবেন। রিক্সাচালক আলী জানালেন-ভোট নেই। নানা-নানীর ভোট আছে। তারা কাকে বেছে নেবেন, আলী জানেন না। খাসা শহীদ টিলার ব্যবসায়ী, তার বাড়ি পঞ্চগড়ে। কাকে ভোট দিবেন জানতে চাইলে উত্তর এল-আমরা জীবনেও ধানের শীষ, মরণে ধানের শীষ।
বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে আসন্ন ভোট নিয়ে ভোটারদের বেশ আগ্রহ লক্ষ করা যায়। তারা যেন মেয়র, কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচিত করতে অপেক্ষা করছেন। জানতে চাইলে সুজন’র বিয়ানীবাজার উপজেলা সভাপতি এডভোকেট মো. আমান উদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং সহিংসতা মুক্ত একটি অবাধ নির্বাচনের জন্য তারা সহযোগিতা করবেন। তার সংগঠন স্থানীয় সরকারের প্রকৃত জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে কাজ করছে। সাধারণ জনগণের মত তারাও একটি গ্রহনযোগ্য নির্বাচন আশা করেন।