বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি | ১৮ এপ্রিল, ২০১৭
জনতার মুখোমুখি হয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হলে দুর্নীতিমুক্ত পৌরসভা গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিয়ানীবাজার পৌর নির্বাচনের ৫ জন মেয়র পদপ্রার্থী। একইসঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলারও ঘোষণা দেন তারা।
মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) পৌর শহরের ইউছুফ কমপ্লেক্সে সুজন আয়োজিত অনুষ্ঠানে তারা এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এ অনুষ্ঠানে বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচনে ৮ জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিয়ানীবাজার পৌরসভার কয়েক শতাধিক ভোটারও উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আব্দুস শুকুর ছাড়াও উল্লেখযোগ্য প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবু নাছের পিন্টু, জাসদ মনোনীত শমশের আলম, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আমান উদ্দিন, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী বদরুল হক প্রমুখ।
এদিকে অনুষ্ঠানে আসেন নি স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তফজ্জুল হোসেন, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আবুল কাশেম পল্লব, জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী জমির হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রত্যেক মেয়র প্রার্থী ৫ মিনিট করে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পান। কে আগে বক্তব্য দেবেন, সেটাও নির্ধারণ করা হয় লটারির মাধ্যমে। পাশাপাশি ভোটারদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন তারা। মেয়র প্রার্থীরা যেসব অঙ্গীকারের কথা ব্যক্ত করেন সেগুলো হচ্ছে, বিয়ানীবাজার পৌরসভাকে সুন্দরভাবে সাজাতে হলে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। যানজট, জলাবদ্ধতা ও ভেজালমুক্ত আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য পৌরসভাকে গড়তে হবে একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে। তারা আরো অঙ্গীকার করেন, নির্বাচিত হলে প্রত্যেকেই এসব বাস্তবায়ন করবেন। এছাড়া সুজন প্রণীত ১৩ দফা অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন মেয়র প্রার্থীরা।
সুজনের অঙ্গীকারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতকরণ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা, আচরণবিধি মেনে চলা, পরাজিত হলে গণরায় মেনে নেয়া, জয়ী হলে সবার মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা।
প্রার্থী ছাড়াও অনুষ্ঠানে এসে শপথ করেছেন ভোটাররা। দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীকে ভোট না দেয়া, টাকার বিনিময়ে ভোট বিক্রি না করাসহ বিভিন্ন অঙ্গীকার করেন তারা।
মুখোমুখি অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সুজনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক বদিউল আলম। অনুষ্ঠানে সুজন বিয়ানীবাজার শাখার সভাপতি এডভোকেট আমান উদ্দিনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুজন উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষাবিদ আলী আহমদ, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মনির হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাসিব মনিয়া, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বাবুল, শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল প্রমুখ।