Sylhet Today 24 PRINT

হাকালুকিতে পানি দূষণমুক্ত ও মাছের মড়করোধে ৪ হাজার কেজি চুন প্রয়োগ

বড়লেখা প্রতিনিধি |  ১৮ এপ্রিল, ২০১৭

মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরের বড়লেখা অংশের পানি দূষণমুক্ত ও মাছ মড়করোধ করতে মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে প্রায় ৪ হাজার কেজি চুন পানিতে ছিটিয়ে দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে হাওরের বড়লেখা অংশের বিভিন্ন বিলে চুন ছিটিয়ে দিতে দেখা গেছে।

গত দুইদিনে হাকালুকি হাওরে আইড়, বোয়াল, রুই, কাতলা, কাল বাউস, সরপুঁটি, পাবদা, ঘুলশা, টেংরা, পুঁটি, বাইমসহ নানা জাতের প্রায় ১৫-২০ টন মাছ মারা গেছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ। এভাবে হাওরে মাছ মরতে থাকলে মাছের আকাল দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ‘অকাল বন্যায় তলিয়ে যাওয়া এইসব আধাপাকা ধান ও ধানগাছ পচে পানির গুণাগুণ নষ্ট করেছে। এছাড়া ধানগাছ এবং ঘাসে নিধনের বিষের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে হঠাৎ পানির পিএইচ (পটেনশিয়াল অব হাইড্রোজেন) কমে গিয়ে স্বাভাবিক ৭ মাত্রা থেকে পিএইচ ৫.৮ মাত্রায় নামায় অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং দ্রবীভূত অক্সিজেন হ্রাস (৫ পিপিএম) হওয়ায় ধান ও মাছ পচে হাওরের পানি দূষিত হয়ে বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।’

বড়লেখা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ‘চলতি মাসে অকাল বন্যায় বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি অংশে প্রায় ১৮০০ হেক্টর বোর ধান তলিয়ে যায়। উপজেলার হাকালুকি অংশে প্রায় ২২৭৫ হেক্টর বোর ধান আবাদ করা হয়। আবাদের লক্ষ্যমাত্রাও ধরা হয়েছিল ২২৭৫ হেক্টর। কিন্তু হঠাৎ করে পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে হাওরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে হাকালুকি হাওর অংশের ১৮০০ হেক্টর ধান পানির ২/৩ ফুট নিচে তলিয়ে যায়। এতে হাকালুকি হাওর অংশের ৩টি ইউনিয়ন বর্ণি, সুজানগর ও তালিমপুর ইউনিয়নের ৪১২০ কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকা এইসব ধান গাছ পচে বাতাসে দুর্গন্ধ’র সৃষ্টি হয়েছে।’

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুন হাওরে চুন ছিটানোর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পানি দূষণমুক্ত ও মাছ মরা রোধ করতে প্রায় ৪ হাজার কেজি চুন পানিতে ছিটিয়ে দেয়া হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে হাওরের বিভিন্ন বিলে আরো চুন ছিটিয়ে দেয়া হবে। জনসাধারণকে আগামী চার-পাঁচদিন সকল প্রকার মাছ ধরা বন্ধ এবং না খাওয়ার জন্য মাইকিং করে জানানো হয়েছে।

এছাড়া বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওর অংশের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যজীবীদের তালিকা করা হচ্ছে। অতি দ্রুত তাদের সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া খাদ্য ও অর্থ সহায়তা (জিআর) কর্মসূচীর আওতায় ২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আগামী সপ্তাহ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে এই চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.