হবিগঞ্জ প্রতিনিধি | ১৮ এপ্রিল, ২০১৭
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে অর্ধশত লোক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা গুরুতর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ৬ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে।
বুধবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার রাজাপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বর্তমান সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সভাপতি পদপ্রার্থী শাহজাহান মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি শাহজাহান মিয়া ও সাবেক প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বর্তমান সভাপতি নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্কুলের গাছ অবৈধভাবে বিক্রি করার অভিযোগ করেন।
এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পুটিজুরী ফরেস্ট অফিসের বিটকর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, ইউপি মেম্বার আতাউর রহমান সহ কয়েকজন। তদন্তকার্য চলাকালে উভয় পক্ষ তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশত লোক আহত হন।
আহতদের মাঝে গুরুতর অবস্থায় রাজাপুর গ্রামের শফিক মিয়া (২৫) ও জহুর আলী (৭০) কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং মনির (৩৩) ও জিতু মিয়া (৫০) কে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে এবং মিঠাপুর গ্রামের আব্দুল রহিম (৪২), এলাইছ মিয়া (৩৫), কাইতগাঁও গ্রামের শামছুল ইসলাম (৪০), ইছাক উদ্দিন (৫৫), রাজাপুর গ্রামের জিতু মিয়ার স্ত্রী ছিতারা খাতুন (৩৫), একই গ্রামের আব্দুল গফুর (৭০), রুকু মিয়া (৩৫) ও কুতুব উদ্দিন (৩০) কে বাহুবল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে বাহুবল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হাই ও বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনেন।
বাহুবল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বলেন, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে নজরুল ও শাহজাহানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একটি অভিযোগের তদন্তকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে থাকা বনবিট কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ মোবাইল ফোনে জানান, সাবেক প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের দায়েরকৃত সরকারি গাছ কাটার একটি অভিযোগের তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তদন্ত চলাকালে এ সংর্ঘষের ঘটনার সূত্রপাত হয়।
থানার এস আই কাজী জিয়াউদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আছে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৬ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়েছে।