Sylhet Today 24 PRINT

দেশে থাকার সময়ও আইএসে যোগ দেওয়া পরিবারের চালচলন ‘উদ্ভট ছিল’

মারূফ অমিত |  ১৯ এপ্রিল, ২০১৭

‌'ধারণা করছি ভাইয়ের পুরো পরিবার জঙ্গী গোষ্ঠী আইএস-এ যোগ দিয়েছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন আমি। তবে ইংল্যান্ডে যাবার পর থেকে আমাদের সাথে তার পরিবারে খুব একটা যোগাযোগ ছিল না।'- বলছিলেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার  মাইজগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ।

গত দুই বছর আগে আব্দুল লতিফের পরিবারের ১২ সদস্য সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দেন। সম্প্রতি এই পরিবারেরই সদস্য জাহিদ হুসাইন নবীনের অস্ত্র হাতে ছবি প্রকাশ পায়। এনিয়ে নবীনের চাচা আব্দুল লতিফের সাথে কথা হয়  মঙ্গলবার বিকেলে।

তিনি বলেন, অস্ত্র হাতে যে যুবকের ছবি দেখেছি সেটা আমার ভাতিজা নবীনের ছবি। এই ছবিটা আমি আগে কখনো দেখি নি। দুই তিন আগে পত্রিকায় ছবিটা দেখিয়েছে আমার পাশের বাড়ির এক ভাতিজা।

তিনি আরো জানান, সে ২০১৫ সালে যখন সে দেশে এসেছিল তখন তার এত দাড়ি ছিল না।  কিন্তু দেশে আসার পর তাদের পরিবারের সবার চালচলন কেমন যেনো উদ্ভট ছিল।

প্রকাশ হওয়া ছবি নিয়ে তিনি জানান, আমার ভাতিজা নবীন বা তাদের পরিবারের কারো সাথেই আমাদের কোন যোগাযোগ নেই। তিনি বলেন, এটা আমার জন্য শুধু নয় এটা সবার জন্য খুবই লজ্জাকার। আমি এদের নিয়ে আর মাথা ঘামাচ্ছি না।

পরিবারের অন্য এক সদ্স্য জানান, আমরা ছবিটা পত্রিকায় দেখেছি। এছাড়া কোন কিছুই আর জানি না। এদের নিয়ে আমরা বিব্রত। এদের খোঁজ খবর রাখার কোন প্রয়োজন আমরা মনে করি না।

আব্দুল লতিফ আরো জানান, ২০১৫ সালে ১১ এপ্রিল আমার ভাই আব্দুল মান্নান দেশে এসেছিলো পুরো পরিবার নিয়ে। সে বলেছিলো এসে মেয়ের বিয়ে দেবে। কিন্তু তার মেয়ে রাজিয়া খানেমর আচরণ ছিল উদ্ভট রকমের।

তিনি জানান, তারা এক মাস (১২ মে, ২০১৫) দেশে থাকার পর যখন দেশ ছাড়ে তখন শুনেছিলাম ফ্লাইটের সমস্যার কারণে লন্ডন যাবার পথে তারা একদিন তুরস্কে অবস্থান করেছিল। কিন্তু পরবর্তিতে জানতে পারলাম ইচ্ছাকৃত ভাবেই তারা তুরস্কে থেকে আর প্লেনে উঠেনি এবং সেখান থেকে সিরিয়া চলে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই পরিবারের অন্য একজন আত্মীয় জানান, এসব ঝামেলার কারণে মামা (আবুল লতিফ) আজ অসুস্থ। উনার হার্টে রিং লাগানো হয়েছে। এসব ঝামেলা নিয়ে উনাকে আমরা ভাবতে বা কথা বলতে দিচ্ছি না।

তিনি জানান, প্রকাশিত ছবি জায়েদ হুসাইন নবীন তার বোন রাজিয়া খাতুনের প্ররোচনায় আইএসে চলে গেছে। তাদের পরিবারের ১২ জন সদস্যের সবাই নিখোঁজ।

উল্লেখ্য, দুই বছর আগে হঠাৎ নিঁখোজ হয়ে পড়েছিলো সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের ১২ সদস্য। যুক্তরাজ্য প্রবাসী এই পরিবারের সকল সদস্য সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দিয়েছিলেন বলে সে সময় জানিয়েছিলেন তাদে৭৫ বছর বয়সী মান্নানের পরিবারের অন্য সদস্যরা হলেন- স্ত্রী মিনারা খাতুন (৫৩), মেয়ে রাজিয়া খানম (২১), ছেলে মোহাম্মদ জায়েদ হুসাইন (২৫), মোহাম্মদ তৌফিক হুসাইন (১৯), মোহাম্মদ আবিল কাশেম সাকের (৩১) এবং তার স্ত্রী সাঈদা খানম (২৭); মোহাম্মদ সালেহ হুসাইন (২৬), তার স্ত্রী রশানারা বেগম (২৪) এবং তাদের তিন সন্তান, যাদের বয়স এক থেকে ১১ বছরের মধ্যে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.