বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি | ১৯ এপ্রিল, ২০১৭
বিয়ানীবাজার থেকে কৌশলে বিদেশ পাঠানোর নাম করে এক তরুণীকে বিক্রি করে দিয়েছে তার এক নিকটাত্মীয়। হাত বদল করে চতুর্থ দফা বিক্রির সময় ওই তরুণীকে উদ্ধার করেছেন নীলফামারী জেলার বুড়িমারি স্থলবন্দর এলাকার ব্যবসায়ী ও জনতা।
ভারতে পাচারের সময় উদ্ধার হওয়া ওই তরুণীর বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার দুবাগ ইউনিয়নের খাড়াভরা গ্রামে।
দুবাগ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিয়ানীবাজারের দুবাগ ইউনিয়নের খাড়াভরা এলাকায় জনৈক ব্যক্তির কন্যা ওই তরুণীকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে গত ১৩ এপ্রিল বাড়ি থেকে নিয়ে যায় জকিগঞ্জ উপজেলার পরচক গ্রামের মফিক আলীর পুত্র লায়েক (২৫)। এ সময় সে তার পাসর্পোটসহ বিদেশ পাঠানোর আনুসাঙ্গিক কাজ সবকিছু সিলেট থেকে করতে হবে বলে জানায়। এজন্য তাকে বিমান টিকেটসহ ৬০ হাজার টাকা দিতে বলে।
আত্মীয়তার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে লায়েক ওই তরুণীকে সিলেট শহরে নিয়ে যায়। এরপর নারী পাচারকারী চক্রের কাছে তরুণীকে মাত্র ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। সেখান থেকে ঢাকায় এবং পরে নীলফামারী জেলার নারী পাচারকারী চক্রের কাছে তাকে তৃতীয়বার বিক্রি করা হয়। সেখানকার সীমান্ত এলাকার বুড়িমারি স্থলবন্দরে তাকে নিয়ে গেলে চতুর্থ দফা বিক্রির সময় মেয়েটি তা বুঝতে পেরে চিৎকার শুরু করে।
এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনতা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশের সহায়তায় ওই তরুণীর পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা নীলফামারীর উদ্দেশে রওয়ানা দেন।
বর্তমানে ওই তরুণী তার পরিবারের সদস্যদের কাছে রয়েছেন বলে জানান বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী। তিনি বলেন, এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে একটি সাধারণ ডায়রী করা হয়েছে। তবে মেয়েকে বিয়ানীবাজারে নিয়ে আসার পরই মামলা দায়ের করা হবে।