নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ এপ্রিল, ২০১৭
আকস্মিক বন্যায় হাকালুকি হাওরের ধান নষ্ট হওয়ার পর মাছ মরে যাওয়ার ঘটনা ছিল সেখানকার মানুষদের জন্য মরার উপর খাড়ার ঘা। কিন্তু স্থানীয় মানুষদের দুর্দশা এখানেই শেষ হয়নি। এবার হাওরে মরছে হাঁস।
স্থানীয়রা বলছেন, ওই এলাকায় দূষিত মরা মাছ খেয়ে মরছে পোষা হাঁস। এতে গরিব কৃষকসহ খামারিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় হাকালুকি হাওরের পাশের অনেক মানুষের জীবিকা হাওরে হাঁস পালনের ওপর নির্ভরশীল। হাওরে বিচরণ করা এমন শত শত হাঁস মরে হাওরে ভেসে উঠছে।
কুলাউড়া উপজেলা প্রাণিসম্পাদ কর্মকর্তা ডা. সাইফুদ্দিন জানান, হাঁসের মড়ক প্রতিরোধে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাওরে চিকিৎসক টিম হাঁসের মধ্যে ভ্যাকসিনসহ ওষুধ প্রদানের কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি হাওরের পানিতে হাঁস না ছাড়ার জন্য খামারিসহ কৃষকদের সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়ার কাজ চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডুবে যাওয়া ধানে ব্যবহৃত কীটনাশক ও সার পানিতে মিশে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, আধাপাকা ধান ও ধান গাছ পচে পানির গুণাগুণ নষ্ট করেছে। পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেছে। ফলে হাওরাঞ্চলের সর্বত্র মাছ মরে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এই হাওরে খাবার খেয়ে মারা যাচ্ছে হাঁসও।
সিলেটের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক ড মামুনুর রশিদ বলেন, বন্যার পানিতে আধপাকা ধান পচে পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। এই হাওরের খাবার খেয়ে হাঁস মারা যাচ্ছে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের প্রধান ড নাসরিন সুলতানাও হাঁস ও মাছের মৃত্যুর জন্য বিষক্রিয়াকেই দায়ী করেছেন। তার মতে ধান পচে এটা হয়েছে।
তিনি বলেন, “মরা মাছ বা হাঁস খেলে মানুষের বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষতি হতে পারে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের সভাপতি ড মো শাহাবউদ্দিন বলেন, পচা মাছ থেকে বের হওয়া অ্যামোনিয়ায় হাওরের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে। মরা মাছ বা পাখি কেউ যেন কোন অবস্থাতেই খেতে পারে তার জন্য নজর রাখা দরকার।
ফেঞ্চুগঞ্জের মাইজবাগ এলাকার কামালউদ্দিন গত ১০ বছর ধরে হাঁস পালন করেন। তিনি জানান, এমনটা আগে কখনই ঘটতে দেখেননি তিনি। পানিতে সবখানে মরা হাঁস ভাসছে। তার ১৫০টি হাঁসের সবগুলোই মরে গেছে।
এদিকে হাকালুকিতে মাছ মড়ক বন্ধে মৎস্য অফিসের উদ্যোগে চুন ও ওষুধ ছেটানোর কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
হাওরবাসীরা জানান, গত শনিবার রাতে কালবৈশাখীর পর বাতাসের সঙ্গে অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
হাকালুকি হাওরে চৈত্র মাসের অকাল বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে ধান পচে পানি দূষিত হয়ে ৩-৪ দিন থেকে ব্যাপকহারে মাছের মড়কের পাশাপশি হাঁসের মড়ক দেখা দেওয়ায় ধান, মাছ ও হাঁস মরার পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে হাওরের বাতাসে।
এর আগে রোব ও সোমবার ও এলাকার হাওরে বোয়াল, পাবদা, টেংরা, বাইনসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় মাছ মরে পানিতে ভেসে ওঠে।