নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ এপ্রিল, ২০১৭
পরকীয়া প্রেমে দেখে ফেলায় প্রেমিকের সহযোগীতায় স্বামী ও মেয়েকে হত্যা করেন রুশনা বেগম নামের এক নারী। রুশনা বেগমের বাড়ি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পুটামারা এলাকার।
গত বছরের ৮ আগস্ট কোম্পানীগঞ্জের একটি হাওরে পাওয়া যায় স্বামী আব্দুস সালাম ও মেয়ে রুলি বেগমের মরদেহ।
মরদেহ উদ্ধারের পর রুশা বেগম দাবি করেছিলেন, সম্পত্তির লোভে নিজের স্বামীর ভাইয়েরা তার স্বামী ও মেয়েকে হত্যা করেছে। এই অভিযোগে রোশনা বেগম নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরও করেন।
তবে সম্প্রতি কোম্পানীগঞ্জের চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে মায়ের পকরীয়া প্রেমের বিষয়টি।
হত্যা তদন্তের অগগ্রতি নিয়ে বৃহস্পতিবার নিজেদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। এতে পিবিআই সিলেটর বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, চাঞ্চল্যকর এ মামলার রহস্য উদঘাটনের অনেকদিন ধরে কাজ করছে পিবিআই। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ জানতে পারে মামলার বাদী নিহত রুলির মা রুশনা বেগমের সাথে একই এলাকার মখন মিয়ার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। মেয়ে রুলি তা দেখে ফেলায় মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মা।
৮ আগস্ট রুলি ও তার বাবা আব্দুস সালাম নৌকযোগে বাজার থেকে ফেরার পথে মখন ও তার সহযোগীরা টাইয়া পাগলা বড় হাওরের মধ্যে তাদের হত্যা করে।
এ ঘটনায় পিবিআই গত ১০ এপ্রিল রুশনা ও মখনকে আটক করে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে খুনের কথা স্বীকার করেছে।
এরপর রুশনা বেগমকেও আটক করে পুলিশ। তিনিও ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেন।
শীঘ্রই এ মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।