Sylhet Today 24 PRINT

বই চিন্তার বাতিঘর আর মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকারের অন্য নাম: আবেদ খান

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২০ এপ্রিল, ২০১৭

সিলেটে জীবনমান উন্নয়ন প্রয়াসী সংস্থা ইনোভেটর আয়োজিত বইপড়া উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরেণ্য সাংবাদিক ও লেখক আবেদ খান বলেছেন, যুগ যুগান্তর থেকে মানুষের মুক্তি আর সংগ্রামের অমর গাঁথা ধারণ করে যাচ্ছে বই। বই ইতিহাসের অমূল্য দলিল। বইয়ের পাতা মলিন হতে পারে কিন্তু ইতিহাস কখনো নয়। বাঙালীর মুক্তিযুদ্ধ দ্রোহ আর বীরত্বের এক অবিনাশী সংলাপ।

বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে তিন মাসব্যাপী বইপড়া উৎসবের এ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

আবেদ খান মুক্তিযুদ্ধের বই নিয়ে ‘ইনোভেটর’ এর এই উৎসবকে এক আলোক অভিসারী পদক্ষেপ আখ্যায়িত করে বলেন, বই পড়ে হৃদয়ের দারিদ্রতা দূর করা যায়। ৭১ এ আমরা যে মশাল জ্বালিয়েছিলাম তা তোমাদেরকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সচেতন কোনো তরুণ কখনো দেশ বিরোধী কাজে লিপ্ত হতে পারে না।

অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, বই চিন্তার বাতিঘর আর মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকারের অন্য নাম। জ্ঞান-নীতি আর প্রজ্ঞার সমন্বয়ে তরুণদের নেতৃত্ব দিতে হবে প্রতিটি ক্ষেত্রে। সোনার বাংলার প্রতিটি স্বপ্ন ছুঁয়ে ছুঁয়ে তরুণদের হতে হবে খাটি মানুষ। জঙ্গি, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ কখনো তরুণদের পথ হতে পারে না, তরুণদের আরাধ্য হবে জ্ঞান ও নন্দনের পথ। একাত্তরের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আজকের শিক্ষার্থীদের হতে হবে সাহসের মশাল। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চার মাধ্যমে আশ্বস্ত করে নিতে হবে প্রতিবাদের ভাষা।

বইপড়া উৎসবের প্রধান উদ্যোক্তা সিটি কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, রাজনীতিবিদ লোকমান আহমদ, সাবেক সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরী ও মদনমোহন কলেজের অধ্যক্ষ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ।

বইপড়া উৎসবে অংশ নেয়া বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের শুরুতে ইনোভেটর’র সংগঠক সুবিনয় আচার্য রাজু, আশরাফুল ইসলাম অনি এবং শাওন আহমদের নেতৃত্বে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। সংবাদ পাঠিকা জান্নাতুল নাজনিন আশার উপস্থাপনায় উৎসব আয়োজনের নানাদিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বইপড়া উৎসবের প্রধান উদ্যোক্তা প্রণবকান্তি দেব।

এরপর বইপড়া, সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তুষার কর, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শামিমা চৌধুরী, প্রফেসর ড. স্নেহাংশু শেখর চন্দ্র, সিলেট সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি পুলিন রায়, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত, লায়ন মেহেদী কাবুল, ইনোভেটর এর সমন্বয়ক প্রভাষক সুমন রায়। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের পক্ষ থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ফরাহানা আহমেদ সুহা ও পাইলট স্কুলের শিক্ষার্থী মো. তানভীর হোসাইন।

পরে তিন মাসব্যাপী বইপড়া উৎসবের পুরস্কার বিজয়ী শিক্ষার্থী স্কুল পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পাঠক আদৃতা দেওয়ানজী, সেরা পাঠক মো. তানভীর হোসাইন, প্রেরণা রানী দত্ত, বিশেষ পাঠক শ্রুতি চন্দ, তানিশা আনজুম, মোছা. সুমাইয়া আক্তার ও এশীতা রানী নাথ এবং বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পাঠক মো. নিজামুর রহমান, সেরা পাঠক ফারহানা আহমেদ সুহা, মো. নিহাম মতিন, বিশেষ পাঠক শ্রাবনী দেব রায়, মাহবুব আহমদ রবিন ও ইশরাত সুলতানা নওরিনের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে পরীক্ষায় অংশ নেয়া সকল শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র এবং উৎসব স্মারক তুলে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, ‘জ্ঞানের আলোয় অবাক সূর্যোদয়!/ এসো পাঠ করি/ বিকৃতির তমসা থেকে/ আবিস্কার করি স্বাধীনতার ইতিহাস’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে বইপড়া উৎসবের যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে। তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার প্রত্যয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি ইতিমধ্যে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.